শিরোনাম

বাংলাদেশ থেকে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যা জানা জরুরি

: জুবায়ের আহমদ
প্রকাশ: ২০২৫-০৬-০৫

বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে বিদেশ যাত্রা করেন। সবচেয়ে বেশি আগ্রহ থাকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানিতে পড়াশোনা করার জন্য। এছাড়া চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াতেও শিক্ষার্থীদের আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়।

বিদেশে পড়াশোনার জন্য বিভিন্ন দেশের আলাদা নিয়ম থাকলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কিছু সাধারণ ধাপ মেনে চলতে হয়। তাই আপনি যদি বিদেশে পড়াশোনা করতে চান, প্রথমেই দেশের নির্বাচন করুন। এরপর সেই দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, প্রতিষ্ঠান, কোর্স, শিক্ষাবৃত্তি এবং জীবনযাপনের খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করুন। সঠিক তথ্য ছাড়া ভ্রমণ বা ভর্তি প্রক্রিয়া জটিল হতে পারে।


যুক্তরাজ্য: বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়ম

যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করতে হলে বয়স হতে হবে কমপক্ষে ১৬ বছর। এইচএসসি বা সমমান পাশ করলেই স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হওয়া যায়। এছাড়া মাস্টার্স, ডিপ্লোমা ও সার্টিফিকেট কোর্সেও ভর্তি হওয়া সম্ভব।

ভিসার জন্য প্রয়োজন হবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে কোর্সের অফার লেটার, যাকে কনফারমেশন অব অ্যাক্সেপট্যান্স ফর স্টাডিজ (CAS) বলা হয়। অফার লেটারে কোনো শর্ত থাকলে ভিসা আবেদন বাতিল হতে পারে।

পড়াশোনা ও থাকার খরচ চালানোর জন্য পর্যাপ্ত অর্থ প্রমাণ দেখাতে হবে, যা কোর্স ও থাকার মেয়াদের উপর নির্ভর করবে। ইংরেজি দক্ষতা প্রমাণের জন্য আইইএলটিএসের মত স্বীকৃত পরীক্ষা দিতে হবে।

ভিসার আবেদন কোর্স শুরু হওয়ার অন্তত ৬ মাস আগে করতে হয় এবং সাধারণত ৩ সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়। কোর্স অনুযায়ী ২ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নেওয়ার ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।


যুক্তরাষ্ট্র: উচ্চশিক্ষার সুযোগ ও প্রক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শুরু করার জন্য আগে অবশ্যই নিজস্ব প্রয়োজন ও সামর্থ্য অনুযায়ী কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়া সাধারণত পড়াশোনা শুরুর এক বছর থেকে দেড় বছর আগেই শুরু করতে হয়।

আবেদনের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার সকল সার্টিফিকেট ইংরেজিতে অনূদিত এবং নোটারি করা আবশ্যক। ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণপত্র, রেকমেন্ডেশন লেটার এবং ব্যক্তিগত বিবৃতিও আবশ্যক।

ভর্তির পাশাপাশি বৃত্তির আবেদনও একসাথে শুরু করতে হয়। ভিসা আবেদনের জন্য অবশ্যই প্রতিষ্ঠান থেকে অফার লেটার থাকতে হবে। ভিসা পেতে সময় নিতে হতে পারে, তাই ধৈর্য্য ধরে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা জরুরি।


কানাডা: সহজ ও জনপ্রিয় গন্তব্য

কানাডার সরকারি ওয়েবসাইট এবং বিভিন্ন প্রাদেশিক শিক্ষা বিভাগের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা যায়। আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে কমপক্ষে এক বছর আগে।

প্রতিষ্ঠান থেকে লেটার অব অ্যাক্সেপটেন্স পাওয়া গেলে সেটি স্টাডি পারমিটের আবেদন সময় লাগে। ইংরেজি বা ফরাসি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণপত্র দিতে হবে। পাশাপাশি স্টেটমেন্ট অব পারপাস (SOP) এবং রেকমেন্ডেশন লেটার প্রয়োজন।

কানাডায় স্নাতকের খরচ বছরে প্রায় ১৫,০০০ থেকে ৫০,০০০ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে। স্টাডি পারমিট পাওয়ার জন্য যথেষ্ট আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দেখাতে হয়। পরিবারের সদস্যদের সাথে যাওয়ার ক্ষেত্রেও যথেষ্ট তহবিল থাকতে হবে।


অস্ট্রেলিয়া: দ্রুত প্রক্রিয়া ও উন্নত শিক্ষা

অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা শুরু করার জন্য আগে থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স নির্বাচন করা দরকার। ইংরেজিতে দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়া মেনে সফল হলে লেটার অব অফার ও অ্যাক্সেপটেন্স ফর্ম দেওয়া হয়।

ভিসার আবেদন শুরু করতে হবে কমপক্ষে ৮ সপ্তাহ আগে। শিক্ষাগত যোগ্যতার সব সার্টিফিকেট অনুবাদ করে নোটারি করতে হবে। ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর থেকে ভিসার তহবিলের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।


জার্মানি: সাশ্রয়ী ও সুযোগসন্ধানী

জার্মানিতে ইংরেজি ভাষায় পড়াশোনা সম্ভব। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি ভাষার কোর্স রয়েছে। DAAD ডাটাবেজ থেকে বিভিন্ন বৃত্তির তথ্য পাওয়া যায়।

ভর্তি হওয়ার জন্য আবেদনপত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট, পাসপোর্টের ফটোকপি এবং ভাষাগত দক্ষতার প্রমাণপত্র জমা দিতে হয়। খরচ বহনের জন্য বছরে কমপক্ষে ১১ হাজার ইউরো অর্থ প্রদর্শন করতে হয়, যা ব্লকড অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হয়।

জার্মানিতে পড়াশোনা ও জীবনযাপনের খরচ তুলনামূলক কম। তবে যথাযথ আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ থাকাটাই গুরুত্বপূর্ণ।


বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণের জন্য সঠিক তথ্য, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি এবং সময়মতো আবেদন করাই সাফল্যের চাবিকাঠি। তাই আগাম পরিকল্পনা করুন এবং যেকোনো প্রশ্ন থাকলে অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিন।

  • Education news
  • Student visa
  • Viral News
  • শিক্ষা
  • error: Content is protected !!