২২ বছর পর সিলেটে তারেক রহমান, জনসভা ঘিরে উৎসবমুখর নগরী

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: 2026-01-21


বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান একদিকে দলের প্রধান, অন্যদিকে বৈবাহিক সূত্রে সিলেটের জামাই। সিলেটকে তিনি নিজেই তাঁর ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ বলে উল্লেখ করেছেন। সেই সুবাদে সিলেটের তরুণরা তাঁকে ‘দুলাভাই’ আর মুরব্বিরা ‘জামাই’ নামে সম্বোধন করে থাকেন। দীর্ঘ ২২ বছর পর সিলেটে তাঁর আগমনকে ঘিরে নগরজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

দলীয় প্রধানকে স্বাগত জানাতে সিলেট নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও জনসমাবেশস্থলজুড়ে লাগানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড। বিশেষ করে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের চারপাশ সাজানো হয়েছে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছাবার্তায়। বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ।

এর আগে সর্বশেষ সিলেট জেলা বিএনপির কর্মী সম্মেলনে অংশ নিতে এসেছিলেন তারেক রহমান। সে সময় তিনি দলের যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির নির্বাচনি প্রচারের সূচনা সিলেট থেকেই হয়ে আসছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ১৯৯১ সাল থেকে প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনের আগে সিলেট থেকে প্রচার শুরু করতেন। সেই ধারাবাহিকতা এবার বজায় রাখতে যাচ্ছেন তারেক রহমান।

দীর্ঘ ১৭ বছর যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে তিনি গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন। সেদিন সিলেট হয়ে ঢাকায় গেলেও দলীয় নির্দেশনায় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি সীমিত থাকায় সিলেটবাসীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়নি। অবশেষে দুই দশকের বেশি সময় পর সরাসরি সিলেটবাসীর মুখোমুখি হচ্ছেন তিনি।

দলীয় সূত্র জানায়, বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাত ৮টা ১৫ মিনিটে বিমানযোগে সিলেটে পৌঁছাবেন বিএনপি চেয়ারম্যান। গভীর রাতে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। পরদিন সকালে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে যোগ দেবেন।

সমাবেশ শেষে তিনি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের বিরাইমপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে যাবেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে অরাজনৈতিক তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। পরে বেলা ১১টার দিকে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় বক্তব্যের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নির্বাচনি প্রচার শুরু করবেন। এ সময় সিলেট বিভাগের বিএনপি প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা রয়েছে।

সিলেটের কর্মসূচি শেষে তারেক রহমান সড়কপথে ঢাকায় ফেরার সময় মৌলভীবাজারের শেরপুর ও হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে পৃথক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন। পথে কিশোরগঞ্জের ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে সভা করার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলীয় নেতারা।

সিলেট-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান, সিলেট ও সুনামগঞ্জ মিলিয়ে তিন লাখের বেশি নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বিভাগীয় সমাবেশ না হলেও এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় জনসমাবেশ হতে যাচ্ছে।

জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, জনসমাগম সামাল দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ইউনিটগুলো মাঠে রয়েছে। নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। এই জনসভা দেশের রাজনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে জনসভা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, গোয়েন্দা পুলিশ ও সাদা পোশাকের পুলিশের নজরদারিসহ সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

error: Content is protected !!