জিলহজ মাসের ফজিলত ও আরাফার দিনের গুরুত্ব

: আব্দুল্লাহ আল মামুন, প্রতিবেদক
প্রকাশ: 2025-05-22

জিলহজ মাসের ফজিলত ও আরাফার দিনের গুরুত্ব


আব্দুল্লাহ আল মামুন, প্রতিবেদক

হিজরি বর্ষের ১২ মাসের মধ্যে চারটি মাস বিশেষভাবে মর্যাদাসম্পন্ন। এই মর্যাদাসম্পন্ন মাসগুলোর একটি হলো জিলহজ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন—

“আল্লাহর নিকট মাসের সংখ্যা বারো, যা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী নির্ধারিত, যেদিন তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেন। এর মধ্যে চারটি মাস মর্যাদাপূর্ণ। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান।” (সূরা তাওবাহ, আয়াত-৩৬)

এই মর্যাদাপূর্ণ মাসগুলো হলো— জিলকদ, জিলহজ, মহররম ও রজব। এ মাসগুলোতে যুদ্ধ, বিবাদ ও সংঘর্ষ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ। এই সময় রোজা রাখা ও রাত জেগে ইবাদতের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেছেন রাসূলুল্লাহ (সা.)। তিনি বলেন—

“জিলহজের প্রথম দশ দিনের ইবাদত আল্লাহর কাছে অন্য দিনের তুলনায় অধিক প্রিয়। প্রতিদিনের রোজা এক বছরের রোজার সমান এবং প্রতি রাতের ইবাদত লাইলাতুল কদরের মতো।” (তিরমিজি শরিফ)

এই মাসের ৯ তারিখ হলো আরাফার দিন, যা হজের মূল স্তম্ভ বা রুকন। এই দিন হাজীরা মিনা থেকে আরাফার ময়দানে সমবেত হন এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করেন।

এই দিন নফল রোজা রাখা সুন্নত, যদিও হাজীদের জন্য এই রোজা রাখা মুস্তাহাব নয়।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

“আরাফার দিনের রোজা বিগত এক বছর ও আগত এক বছরের গুনাহ মাফের আশা রাখি।” (মুসলিম, তিরমিজি)

এক হাদিসে আরও বলা হয়েছে—

“জিলহজের প্রথম দশ দিনের প্রতিটি দিন হাজার দিনের সমান, আর আরাফার দিন দশ হাজার দিনের সমান মর্যাদাপূর্ণ।”

রাসূল (সা.) আরও বলেছেন—

“আরাফার দিনটি সব দিবসের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ এ দিনের শপথ করেছেন।”

আরাফার ময়দানে অবস্থানরত হাজীদের ওপর আল্লাহর অগণিত রহমত বর্ষিত হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন

“বদরের যুদ্ধ ছাড়া শয়তানকে আরাফার দিনের মতো অপমানিত, লাঞ্ছিত ও ক্রোধান্বিত কখনো দেখা যায় না। কারণ সে দেখে, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের অগণিত পাপ ক্ষমা করে দিচ্ছেন।” (মুয়াত্তা, মিশকাত)

এ কারণে মুসলমানদের উচিত, আরাফার দিন ইবাদত ও বন্দেগিতে নিবিষ্ট থাকা। এই দিনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল হচ্ছে—

১. অধিক পরিমাণে জিকির ও তাসবিহ পাঠ।

২. দোয়া করা। রাসূল (সা.) বলেন—

“সবচেয়ে উৎকৃষ্ট দোয়া হলো আরাফার দিনের দোয়া।”

৩. নফল রোজা রাখা।

জিলহজের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত প্রতিটি ফরজ নামাজের পরে একবার তাকবির বলা ওয়াজিব।

জিলহজের ১০, ১১ ও ১২ তারিখে, যে ব্যক্তি সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা বা তার সমমূল্যের সম্পদের মালিক হন, তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। এটি পুরুষ ও নারীর জন্য সমভাবে প্রযোজ্য।

সাহাবারা রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করেন—

“হে আল্লাহর রাসূল! এই কোরবানি কী?”

তিনি বলেন—

“এটি তোমাদের পিতা ইবরাহিম (আ.)-এর সুন্নত।”

পুনরায় তারা জানতে চান—

“এতে আমাদের কী সওয়াব আছে?”

তিনি বলেন—

“কোরবানির পশুর প্রতিটি পশমের জন্য এক একটি সওয়াব রয়েছে।”

এছাড়াও তিনি বলেন—

“যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকার পরও কোরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের ধারে-কাছেও না আসে।”

তাই মুসলমানদের উচিত জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনকে ইবাদত-বন্দেগিতে অতিবাহিত করা এবং হজ ও আরাফার দিন রোজা ও ইবাদতের মাধ্যমে পূর্ণতা দেওয়া।

প্রশ্ন: হারাম উপার্জনকারীর সঙ্গে কি কোরবানি দেওয়া যায়?

এই বিষয়ে ইসলামিক ফিকহবিদরা ভিন্নমত পোষণ করলেও, কোরবানির গ্রহণযোগ্যতার অন্যতম শর্ত হলো হালাল উপার্জন থেকে তা সম্পন্ন করা। সুতরাং হারাম উপার্জনে কোরবানি দেওয়া অনুচিত ও অগ্রহণযোগ্য।

error: Content is protected !!