সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা স্থলবন্দর এলাকায় অবৈধভাবে ভারতীয় মুদ্রা রুপি দিয়ে জ্বালানি তেল কেনার চেষ্টার অভিযোগে একটি ভারতীয় ট্রাক জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় ট্রাকচালককে আটক করা হলেও পরে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। জব্দ করা ট্রাকটি এখনো বিজিবির হেফাজতে রয়েছে।
আটক ট্রাকচালকের নাম নিখিল দাস (৪৫)। তিনি ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জ জেলার কালাইন থানা এলাকার লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত জলধর দাস।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় পাথরবোঝাই ট্রাক নিয়ে নিখিল দাস ৫২ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর আওতাধীন শেওলা আইসিপি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। পাথর খালাস শেষে ট্রাকটি ভারতে ফেরার পথে জ্বালানি সংকটে পড়ে। এ সময় তিনি বাংলাদেশের একটি দোকান ‘নাদিয়া স্টোর’ থেকে ভারতীয় রুপি দিয়ে ডিজেল কেনার চেষ্টা করেন।
ঘটনাটি বিজিবির নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাকটি জব্দ করা হয়। পরে ট্রাকচালককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে ট্রাকটি এখনো বিজিবির জিম্মায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে বিজিবির কোনো কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, সিলেট সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচার ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাত থেকে শনিবার (৭ মার্চ) রাত পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত পয়েন্ট, নদীপথ ও চিহ্নিত রুটগুলোতে টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি স্টেশন ও পরিবহন কার্যক্রম মনিটরিং এবং সন্দেহভাজন এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
৪৮ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় বাংলাদেশ থেকে জ্বালানি তেল পাচারের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় বিজিবির পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিজিবির মহাপরিচালকের নির্দেশনায় সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার অভ্যন্তর পর্যন্ত এলাকা এবং বিভিন্ন স্থলবন্দর, এলসিপি ও আইসিপিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে জ্বালানি স্টেশন ও পরিবহন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং সন্দেহভাজন রুটে আকস্মিক তল্লাশি পরিচালনা করা হচ্ছে।
