রমজানে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ইফতার ও সাহরিতে খাদ্যাভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। বিশেষ করে ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে স্বাস্থ্যসম্মত ও সহজপাচ্য খাবার বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদেরা। কারণ, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের ফলে অনেকেরই গ্যাস, পেটফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য ও হজমের গোলমালের মতো সমস্যা দেখা দেয়।
এ ধরনের অস্বস্তি এড়াতে প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রোবায়োটিক হলো অন্ত্রে থাকা উপকারী জীবন্ত অণুজীব বা ‘বন্ধু ব্যাকটেরিয়া’, যা হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। রোজার সময় দীর্ঘক্ষণ পেট খালি থাকায় হজম কিছুটা ধীর হয়ে যায়। এ সময় টক দই, বাটারমিল্ক বা লাচ্ছির মতো খাবার অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এতে শুধু হজমই ভালো হয় না, পুষ্টি শোষণ ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও বাড়ে। বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য এটি উপকারী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এম আখতারুজ্জামান বলেন, প্রোবায়োটিকস হলো জীবন্ত মাইক্রো-অর্গানিজম, যা অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে হজমে সহায়তা করে এবং গ্যাস্ট্রিক সমস্যা কমাতে ভূমিকা রাখে। তিনি ইফতার বা সাহরির যেকোনো এক সময়ে এক কাপ টক দই খাওয়ার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি প্রিবায়োটিক হিসেবে শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার রাখার কথাও বলেন।
ইফতারে থাকতে পারে ছোলা, পরিষ্কার মুড়ি বা চিড়া। দই-চিড়া, দইমাখা সালাদ কিংবা লাচ্ছি তাৎক্ষণিক শক্তি ও আঁশের জোগান দিতে পারে। চিনি ও অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা ভালো। ডাবের পানি ও আঁশসমৃদ্ধ ফলও উপকারী।
নেসলে বাংলাদেশের পুষ্টিবিদ সামিনা জামান কাজরীর মতে, প্রোবায়োটিক অন্ত্রে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার কমায় এবং উপকারী ব্যাকটেরিয়া বাড়াতে সাহায্য করে। রোজায় যাঁদের হজমের সমস্যা হয়, তাঁদের জন্য প্রোবায়োটিক বিশেষভাবে উপকারী।
সাহরিতে আমিষের উৎস হিসেবে হালকা মসলায় রান্না করা মাছের ঝোল বা লাউ-মাছ খাওয়া যেতে পারে। অতিরিক্ত মসলা দেওয়া মাংস এড়িয়ে চলাই ভালো। ভাত বা রুটি পরিমাণমতো খাওয়া যায়। পালংশাক, পুঁইশাকসহ বিভিন্ন সবুজ শাকসবজি খাদ্যতালিকায় রাখা উপকারী।
পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, ইফতার বা সাহরিতে এক কাপ টক দই যথেষ্ট। দৈনিক ৩০০–৪০০ গ্রাম শাকসবজি এবং ১০০–২০০ গ্রাম ফল খাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান করা জরুরি। বাসি, পচা বা ধুলাবালুমিশ্রিত খাবার সম্পূর্ণভাবে পরিহার করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রোবায়োটিক শুধু হজমের জন্য নয়; এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রদাহ কমাতে এবং রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা শক্তিশালী করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সুস্থভাবে রোজা পালনের জন্য দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় প্রোবায়োটিক রাখা সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ।
