ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সময় মিলিয়ে শুক্রবার (২০ মার্চ) দেশের বিভিন্ন জেলার কয়েকশ গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রথা অনুসরণ করে এসব এলাকার কিছু মুসল্লি একদিন আগেই রোজা শেষ করে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ ও রায়পুর উপজেলার অন্তত ১১টি গ্রামে সকালেই ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। খানকাহে মাদানিয়া কাসেমিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে প্রধান জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা মুহাম্মদ রুহুল আমিন। স্থানীয়রা জানান, তারা প্রায় পাঁচ দশক ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন।
পিরোজপুরের কাউখালী, মঠবাড়িয়া ও নাজিরপুর উপজেলার ১০টি গ্রামে প্রায় ৮০০ পরিবারের মানুষ ঈদের নামাজ আদায় করেন। একইভাবে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ১৬টি গ্রামেও মুসল্লিরা একাধিক স্থানে ঈদের জামাতে অংশ নেন।
পটুয়াখালীর কলাপাড়াসহ বিভিন্ন উপজেলায় অন্তত আটটি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ আগাম ঈদ উদযাপন করেন। একই জেলার আরও প্রায় ২৮টি গ্রামেও বিশ্বের যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ঈদ পালন করা হয়।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ২৩টি গ্রামে একযোগে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এসব এলাকার বাসিন্দারা জানান, তারা প্রায় এক দশক ধরে একদিন আগে রোজা শুরু ও ঈদ উদযাপন করছেন।
এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঝিনাইদহ, মাদারীপুর, বগুড়া, মৌলভীবাজার, চাঁদপুর, ঝালকাঠি, ভোলা, দিনাজপুর, চট্টগ্রাম, শেরপুর, গাইবান্ধা ও নওগাঁর বিভিন্ন গ্রামেও একইভাবে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মাদারীপুরে প্রায় ২৫টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ ঈদ উদযাপনে অংশ নেন। শরীয়তপুরের সুরেশ্বর দরবার শরীফের অনুসারীরাও প্রায় দেড়শ’ বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখে আগাম ঈদ পালন করেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বের যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ইসলামি বিধান অনুসরণ করেই তারা রোজা ও ঈদ পালন করেন। তাদের বিশ্বাস, মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের প্রতীক হিসেবে একই সময়সূচি অনুসরণ করা যুক্তিযুক্ত।
অন্যদিকে, সারাদেশে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার (২১ মার্চ) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।
