ছবি:-সংগৃহীত
বাংলাদেশ-পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়েই রাজধানী ঢাকায় ফিরেছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। সেই সঙ্গে ফিরেছিল মিরপুরের পুরোনো চেনা চিত্র—লো স্কোরিং, স্লো এবং টার্নিং উইকেট। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই দুই দলের ব্যাটাররা ব্যাট হাতে পড়েছিলেন কঠিন পরীক্ষার মুখে। ম্যাচ শেষে উইকেটের মান নিয়ে উঠেছিল তীব্র সমালোচনা। পাকিস্তানের কোচ মাইক হেসন সরাসরি মন্তব্য করেন, ‘এই উইকেট আন্তর্জাতিক মানের নয়।’
এবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দিক থেকেও এলো স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া। ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদিন ফাহিম উইকেট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
শুক্রবার (১ আগস্ট) চট্টগ্রামে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ফাহিম বলেন, ‘বোর্ড কখনোই লো ও স্লো উইকেট তৈরি করতে বলেনি। আমরা সবসময় এমন একটি স্পোর্টিং উইকেট চাই, যেখানে ভালো বাউন্স থাকবে, ব্যাট এবং বলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। কিন্তু যাঁরা উইকেট তৈরি করছেন, তাঁরা সেটা করতে পারেননি। এর দায় অবশ্যই তাঁদেরই।’
ফাহিম শুধু সমালোচনায় থেমে থাকেননি, দিয়েছেন ভবিষ্যতের জন্য দিকনির্দেশনাও। তাঁর ভাষ্য, ‘মিরপুরে এত খেলা হয়, সেখানে মাটির গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। উইকেট মোটেই সন্তোষজনক নয়, এটা আমরা সবাই মেনে নিই। ভবিষ্যতে হয়তো পুরো মাটি সরিয়ে ফেলতে হবে, নয়তো এটিকে একটি নির্দিষ্ট ও সঠিক প্রক্রিয়ার মধ্যে আনতে হবে। তবেই মানসম্পন্ন উইকেট পাওয়া সম্ভব।’
মিরপুরের ঐতিহ্যবাহী কালো মাটির উইকেট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ফাহিম। তিনি বলেন, ‘যদি উইকেটে ঘাস থাকত, তাহলে বলের ক্ষয় কম হতো। এখন মাটির সঙ্গে সংঘর্ষে বলের রঙ বদলে যায়, কালো দাগ পড়ে যায়—এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’ তিনি বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কথাও সমর্থন করেন।
এর আগে বিসিবি সভাপতি মন্তব্য করেছিলেন, ‘ক্রিকেটারদের উন্নতির জন্য ভালো মানের উইকেট জরুরি। মিরপুরের উইকেট আদর্শ নয়। এখানে অনুশীলনে ব্যাট ভেঙে যায়, ব্যাটিং করাই যায় না, আত্মবিশ্বাসও তৈরি হয় না।’
এই সিরিজেই মিরপুরের উইকেটের বাস্তব অবস্থা স্পষ্ট হয়েছে—প্রথম দুই ম্যাচেই দুই দলের সংগ্রহ ১৪০ রানের আশপাশে। এমনকি পাকিস্তান তাদের ইনিংসের এক পর্যায়ে ছিল মাত্র ৩০ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে! এমন উইকেটে ব্যাটিং পারফরম্যান্সের কথা দূরের ব্যাপার, টিকে থাকাটাই হয়ে পড়ে চ্যালেঞ্জ।
