নীরবে কিডনিতে পাথর হয়েছে কি না, যেসব লক্ষণে বুঝবেন

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: 2026-08-29
ছবি: সংগৃহীত

কিডনিতে পাথর অনেক সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই তৈরি হতে পারে। তবে পাথরটি বড় হয়ে গেলে বা কিডনি থেকে মূত্রনালির দিকে সরে গিয়ে বাধা সৃষ্টি করলে শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। বিশেষ করে পাঁজরের নিচে হঠাৎ তীব্র ব্যথা কিংবা প্রস্রাবের স্বাভাবিকতায় পরিবর্তন কিডনিতে পাথর থাকার সম্ভাব্য ইঙ্গিত হতে পারে।

ভারতের ফোর্টিস হাসপাতাল শালিমার বাগের কনসালট্যান্ট নেফ্রোলজিস্ট ডা. ভানু মিশ্র কিডনিতে পাথর হওয়ার কিছু সাধারণ লক্ষণ এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন।

কিডনিতে পাথর কেন তৈরি হয়

প্রস্রাবে থাকা বিভিন্ন খনিজ ও লবণের মাত্রা বেড়ে গেলে সেগুলো জমে স্ফটিকের মতো শক্ত আকার ধারণ করতে পারে। সময়ের সঙ্গে এসব জমাট পদার্থ কিডনিতে পাথরে পরিণত হয়।

ডা. ভানু মিশ্র জানান, কিডনির পাথর আকারে ছোট বা বড় হতে পারে। ছোট পাথর অনেক ক্ষেত্রে প্রস্রাবের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই বেরিয়ে যেতে পারে। তবে বড় পাথর মূত্রনালিতে আটকে গিয়ে প্রস্রাবের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং তীব্র ব্যথার কারণ হতে পারে।

পাঁজরের নিচে তীব্র ব্যথা হতে পারে সতর্কসংকেত

কিডনিতে পাথরের অন্যতম পরিচিত লক্ষণ হলো শরীরের এক বা দুই পাশে, বিশেষ করে পাঁজরের নিচের দিকে তীব্র ব্যথা অনুভূত হওয়া। এই ব্যথা কখনো স্থায়ী হতে পারে, আবার কখনো কমে গিয়ে পুনরায় শুরু হতে পারে।

পাথর মূত্রনালির মধ্যে দিয়ে নিচের দিকে সরে গেলে ব্যথা তলপেট কিংবা কুঁচকির দিকেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে তীব্র ব্যথার সঙ্গে বমি বা বমি বমি ভাবও দেখা দেয়।

প্রস্রাবের পরিবর্তনেও সতর্ক হোন

কিডনিতে পাথর থাকলে প্রস্রাবের স্বাভাবিক রং বা অবস্থায় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত গেলে সেটি গাঢ় বা লালচে দেখাতে পারে। আবার খনিজ বা লবণের স্ফটিকের উপস্থিতির কারণে প্রস্রাব ঘোলাটে হয়ে যেতে পারে।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন

তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার সঙ্গে জ্বর কিংবা কাঁপুনি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন। কারণ, কিডনির পাথরের কারণে মূত্রনালিতে বাধা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি সংক্রমণও থাকতে পারে।

এ ছাড়া প্রস্রাব করতে কষ্ট হওয়া, বারবার বমি, তীব্র ব্যথা, জ্বর বা কাঁপুনির মতো উপসর্গ দেখা দিলেও অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কীভাবে শনাক্ত করা হয়

কিডনিতে পাথর আছে কি না, তা নির্ণয়ে চিকিৎসকরা শারীরিক পরীক্ষার পাশাপাশি প্রস্রাব ও রক্ত পরীক্ষা করতে পারেন। প্রয়োজন অনুযায়ী আল্ট্রাসাউন্ড বা সিটি স্ক্যানের মাধ্যমেও পাথরের অবস্থান ও আকার নির্ণয় করা হয়।

চিকিৎসার ধরন নির্ভর করে পাথরের আকার, অবস্থান এবং এটি মূত্রনালিতে কোনো বাধা বা সংক্রমণ তৈরি করেছে কি না—এসব বিষয়ের ওপর। ছোট পাথর অনেক সময় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থাপনায় প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যেতে পারে। তবে পাথর বড় হলে বা জটিলতা তৈরি করলে অস্ত্রোপচারসহ অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতির প্রয়োজন হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কিডনিতে পাথরের সম্ভাব্য লক্ষণ দেখা দিলে নিজে থেকে চিকিৎসা না করে দ্রুত একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

error: Content is protected !!