দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সিলেটের, উৎপাদন বাড়াতে নতুন উদ্যোগ

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: 2026-10-11
ছবি: সংগৃহীত

দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে সিলেটের গ্যাসক্ষেত্রগুলো। এসব ক্ষেত্র থেকে উত্তোলিত গ্যাসের পাশাপাশি কনডেনসেট পরিশোধনের মাধ্যমে পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল ও কেরোসিনের চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ মেটানো হচ্ছে। দেশীয় জ্বালানির উৎপাদন আরও বাড়ানো এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন উন্নয়ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল) উৎপাদিত কনডেনসেট পরিশোধন করে দেশের মোট পেট্রোল চাহিদার প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ এবং অকটেনের চাহিদার ৭ থেকে ১৫ শতাংশ পূরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ডিজেল ও কেরোসিনের চাহিদা পূরণেও অবদান রাখছে এই উৎপাদন।

দেশে গ্যাস ও তেলের সরবরাহ বাড়াতে প্রথম পর্যায়ে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের অধীনে ১৫টি কূপ খনন ও পুনঃখননের (ওয়ার্কওভার) কাজ এগিয়ে চলছে। এসব কার্যক্রম সম্পন্ন হলে দেশীয় উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে রশিদপুর-১৩, ডুপিটিলা-১ ও কৈলাশটিলা-৯—এই তিনটি কূপ খননের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কাজ শেষ হলে কূপ তিনটি থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন অতিরিক্ত ৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সিলেটের গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া কনডেনসেটের ব্যবহার বাড়াতে এবং পেট্রোল ও অকটেনের উৎপাদন ও মান উন্নয়নে নতুন রিফাইনারি বা প্রসেসিং ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব ইউনিট স্থাপন করা হলে কনডেনসেট পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি জ্বালানি উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বর্তমানে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের সচল ১৭টি কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৪ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। চলমান অনুসন্ধান ও উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় কূপ খনন ও পুনঃখননের কাজ শেষ হলে সরবরাহ আরও প্রায় ১৩ কোটি ঘনফুট বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ।

সিলেটের গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উন্নয়ন কার্যক্রম পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ বাড়বে। একই সঙ্গে দেশীয় উৎস থেকে জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হবে। দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতেও এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

error: Content is protected !!