সিলেটে হামের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতেও রোগী ভর্তি বাড়ছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ল্যাব পরীক্ষার অভাব। স্থানীয়ভাবে পরীক্ষার সুবিধা না থাকায় নমুনা ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে, ফলে ফলাফল পেতে সময় লাগছে ৩ থেকে ৪ দিন। এতে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সিলেট নগরের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের একটি পুরো ইউনিটকে আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলার প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও সীমিত পরিসরে আইসোলেশনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ল্যাব পরীক্ষার সুযোগ না থাকায় অধিকাংশ রোগীকে উপসর্গের ভিত্তিতেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর রোগীদের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হলেও রিপোর্ট আসতে বিলম্ব হওয়ায় চিকিৎসকরা অপেক্ষা না করে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু করছেন।
শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হাম শনাক্ত ও সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা প্রায় দুইশ’ জনে পৌঁছেছে। আগের ২৪ ঘণ্টায় ল্যাব পরীক্ষায় একজন রোগীর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং একই সময়ে ৩০ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বিভাগের ১১টি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ৬৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই শিশু।
গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে—সংখ্যা ১৪ জন। এরপর মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫ জন। বর্তমানে এই হাসপাতালে ৪০ জন, মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ১০ জন এবং অন্যান্য হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাকি রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ২৬ মার্চ থেকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের ৪ নম্বর ইউনিটকে হামের রোগীদের জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মিজানুর রহমান জানান, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি থাকা ৪০ জন রোগীর কেউই মৃত্যুবরণ করেননি।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে সিলেট সদর উপজেলায় এবং ফেব্রুয়ারির শুরুতে সিলেট নগরে প্রথম হাম রোগী শনাক্ত হয়। সে সময় পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও মার্চের শেষ দিকে সংক্রমণ হঠাৎ করেই বেড়ে যায়।
ডা. জন্মেজয় দত্ত বলেন, প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২-৩টি বেড নিয়ে আইসোলেশন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সন্দেহজনক রোগী পাওয়া গেলেই তাকে পৃথক রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।