ছবি: সংগৃহীত
পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা পালনে আজ আরাফার ময়দানে সমবেত হচ্ছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত লাখো হাজি। গতকাল মিনায় অবস্থানের মধ্য দিয়ে হজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। আজ সূর্যোদয়ের পর হাজিরা মক্কা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের উন্মুক্ত প্রান্তর আরাফার ময়দানে উপস্থিত হয়ে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করবেন।
ইসলামে আরাফায় অবস্থান হজের অন্যতম প্রধান ফরজ। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আরাফায় অবস্থানই হজ।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৯৭৫)
আরাফার মসজিদে নামিরাহ থেকে সমবেত হাজিদের উদ্দেশে খুতবা প্রদান করবেন মসজিদে নববীর প্রধান ইমাম ও খতিব শায়েখ আলী বিন আবদুল রহমান আল হুজাইফি। খুতবার পর হাজিরা একসঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন।
দিনভর আরাফার ময়দানে হাজিরা ইবাদত-বন্দেগি, জিকির ও দোয়ায় মগ্ন থাকবেন। বিশেষ করে বিকেলের পর মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা, রহমত ও মুক্তির জন্য অশ্রুসিক্ত প্রার্থনায় অংশ নেন তাঁরা। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আরাফার দিনের দোয়া আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় এবং এ দিনে অসংখ্য বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৩৪৮)
সূর্যাস্তের পর হাজিরা মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। আরাফা থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরের মুজদালিফায় পৌঁছে তাঁরা একসঙ্গে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবেন এবং খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করবেন। অনেকে সেখানে শয়তানকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপের জন্য পাথরের নুড়িও সংগ্রহ করবেন।
পরদিন ফজরের নামাজ শেষে হাজিরা মিনায় ফিরে বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন। এরপর পশু কোরবানি ও মাথা মুণ্ডনের মাধ্যমে ইহরাম ত্যাগ করবেন। ১১ ও ১২ জিলহজ হজের অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগেই মিনার কার্যক্রম শেষ করবেন তাঁরা।
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো হজ। হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ পালন করে এবং অশ্লীলতা ও গুনাহ থেকে বিরত থাকে, সে নবজাতক শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসে। আর কবুল হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া অন্য কিছু নয়।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৫২১)
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৪৪৭ হিজরি মোতাবেক ২০২৬ সালের হজে অংশ নিয়েছেন ১৫ লাখের বেশি মুসল্লি। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে গেছেন প্রায় ৭৮ হাজার হাজি।
