একটা শহর, একটাই স্বপ্ন—আইপিএল শিরোপা।
বছরের পর বছর অপেক্ষার প্রহর গুনেছে বেঙ্গালুরুবাসী। অবশেষে বিরাট কোহলির নেতৃত্বে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু সেই স্বপ্নপূরণ করেছে। পাঞ্জাব কিংসকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতে শহরে ফিরে আসে আরসিবি। চারদিকে তখন বিজয়ের ঢাক, উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো শহর।
কিন্তু কে জানত, সেই আনন্দমিছিলই কেড়ে নেবে ১১টি প্রাণ?
ট্রফি হাতে কোহলিরা যখন বিধান সৌধ থেকে ভিক্টরি প্যারেড শুরু করেন, তখন হাজারো সমর্থক রাস্তায় নেমে আসে। আট থেকে আশি, সবাই একসূত্রে বাঁধা—‘আরসিবি চ্যাম্পিয়ন!’ স্লোগানে। কিন্তু সেই উন্মাদনায় ছিল না নিরাপত্তার বলয়। কোনো সুষ্ঠু পরিকল্পনা ছাড়াই চলতে থাকে বিশাল মিছিল, আর এক সময় সেটি পরিণত হয় বিশৃঙ্খলায়। প্রচণ্ড ভিড়, হুড়োহুড়ি, আর শেষমেশ পদদলিত হয়ে প্রাণ হারান ১১ জন। আহত হন অনেকে, কেউ কেউ এখনও হাসপাতালে।
প্রশ্নটা এখন গর্জে উঠছে—এই ভয়াবহ ঘটনার দায় নেবে কে?
রাজ্য সরকার? নাকি ফ্র্যাঞ্চাইজি আরসিবি?
সাবেক ভারতীয় পেসার মদন লালের মতে, দুই পক্ষই সমানভাবে দায়ী। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “শিরোপা জেতার পর এত তাড়াতাড়ি এমন জনসমাগম ডেকে আনা একেবারেই দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। আয়োজনটা দুই–তিন দিন পরে করলেই তো হতো। এত মৃত্যু হতো না।”
মদন লাল আরও অভিযোগ করেন, পদদলনের ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পরও আরসিবির স্টেডিয়াম ভেতরে উৎসব চলতেই থাকে। বাইরে মানুষ মরছে, আর ভেতরে চলছে বিজয়ের নাচ—এটা কতটা অমানবিক?
খবরে জানা যায়, বেঙ্গালুরু পুলিশ ভিড়ের আশঙ্কায় এই প্যারেডের অনুমতি দেয়নি। কিন্তু আরসিবি কর্তৃপক্ষ নাকি তা অমান্য করেই আয়োজন চালিয়ে যায়। পরে পুলিশ বাধা না দিয়ে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং একপর্যায়ে লাঠিচার্জ পর্যন্ত করতে হয়।
এই প্রেক্ষাপটে মদন লালের পরামর্শ আরও কড়া—তিনি মৃতদের পরিবারকে আহ্বান জানিয়েছেন ফ্র্যাঞ্চাইজি ও সরকার উভয়ের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি রুপির ক্ষতিপূরণ মামলা করতে।
এই ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে গেছেন অধিনায়ক কোহলিও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন,
“ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। বলার মতো অবস্থায় নেই। খুবই ভয় পেয়েছি।”
যে উৎসব হতে পারত শহরের সবচেয়ে আনন্দঘন দিন, তা রূপ নিয়েছে ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়ে। আরসিবির শিরোপা জয়ের আনন্দ ছাপিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে—উৎসবের আগে কি আমরা প্রস্তুত ছিলাম? কেবল ট্রফি জেতাই কি যথেষ্ট, যদি সেই উদ্যাপনের মঞ্চেই হারিয়ে যায় মানুষের জীবন?
