বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা নীতিতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে পর্যটন, কর্মসংস্থান এবং ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন জটিলতা তৈরি হতে যাচ্ছে।
সম্প্রতি ইউএই’র অভিবাসন বিভাগের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশসহ মোট নয়টি দেশের জন্য পর্যটন ও কর্ম ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হচ্ছে। এই তালিকায় আরও রয়েছে আফগানিস্তান, লিবিয়া, ইয়েমেন, সোমালিয়া, লেবানন, ক্যামেরুন, সুদান ও উগান্ডা।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। শুধু পর্যটন বা কর্ম ভিসাই নয়, ব্যবসায়িক ভ্রমণের ক্ষেত্রেও এ সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে। নিরাপত্তা ঝুঁকি, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক মহামারির অভিজ্ঞতাকে এই পদক্ষেপের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে ইউএই সরকার। তবে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা এখনো দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য চালু থাকা এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিতেও বড় পরিবর্তন এনেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই ভিসার বার্ষিক ফি ১ হাজার ৫০০ ডলার থেকে বাড়িয়ে এক লাফে ১ লাখ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা (১ ডলার = ১২০ টাকা হিসেবে)। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অংশ হিসেবে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০০৪ সাল থেকে চালু থাকা এইচ-১বি কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর ৮৫ হাজার দক্ষ বিদেশি কর্মী যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ পান। মূলত বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং ব্যবসা ব্যবস্থাপনার মতো খাতে এ ভিসা বেশি ব্যবহৃত হয়। অ্যামাজন, মাইক্রোসফট, মেটা, অ্যাপল ও গুগলের মতো বহুজাতিক কোম্পানিগুলো এ কর্মসূচির প্রধান সুবিধাভোগী।
