শিরোনাম

বার্ধক্য প্রতিরোধে যুগান্তকারী প্রযুক্তি উদ্ভাবনের দাবি বিজ্ঞানীদের

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: ২০২৬-০১-১৮
ছবি: সংগৃহীত

বার্ধক্যের ছাপ কমিয়ে মানবকোষকে পুনরুজ্জীবিত করার এক অভিনব কৌশল উদ্ভাবনের দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসভিত্তিক এক গবেষক দল এমন একটি প্রযুক্তি তৈরি করেছেন, যা মানবকোষের শক্তিকেন্দ্র মাইটোকন্ড্রিয়াকে পুনরায় সক্রিয় করে বার্ধক্যজনিত দুর্বলতা কমাতে সক্ষম।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বুধবার (৩ ডিসেম্বর) এ তথ্য জানানো হয়।

গবেষকদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোষে মাইটোকন্ড্রিয়ার সংখ্যা ও কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়। এর ফলেই হৃদরোগ, স্নায়বিক সমস্যা এবং অন্যান্য বার্ধক্য–সম্পর্কিত নানা রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এই সমস্যার সমাধানে তারা তৈরি করেছেন বিশেষ ধরনের অতিক্ষুদ্র কণা, যাকে বলা হচ্ছে ‘ন্যানোফ্লাওয়ার’।

ফুলের আকৃতির এই ন্যানোফ্লাওয়ারগুলো মলিবডেনাম ডাইসালফাইড দিয়ে তৈরি। এর ছিদ্রযুক্ত স্পঞ্জ–সদৃশ গঠন কোষের ভেতরের ক্ষতিকর অক্সিজেন অণু বা রিঅ্যাকটিভ অক্সিজেন স্পিসিজ (ROS) শোষণ করে নেয়। একই সঙ্গে এটি কোষের ভেতরে এমন কিছু জিন সক্রিয় করে, যা নতুন মাইটোকন্ড্রিয়া তৈরিতে সহায়তা করে। কোষের স্বাভাবিক ভারসাম্য ফিরে না আসা পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া কার্যকর থাকে।

গবেষণার সঙ্গে যুক্ত বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার অখিলেশ গাহারওয়ার জানান, সুস্থ কোষকে এমনভাবে উদ্দীপিত করা হয়েছে যাতে তারা আশপাশের দুর্বল বা ক্ষতিগ্রস্ত কোষের সঙ্গে মাইটোকন্ড্রিয়া ভাগ করে নিতে পারে। এর মাধ্যমে কোনও ধরনের জেনেটিক পরিবর্তন বা ওষুধ ছাড়াই কোষকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্টেম সেল স্বাভাবিকভাবেই পার্শ্ববর্তী কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া স্থানান্তর করতে পারে। তবে ন্যানোফ্লাওয়ার ব্যবহারে এই ক্ষমতা প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে কোষের শক্তি উৎপাদন ও বেঁচে থাকার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, স্মুথ মাংসপেশির কোষে শক্তি পুনরুদ্ধারের হার ৩ থেকে ৪ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি কেমোথেরাপির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হৃদপেশির কোষেও বেঁচে থাকার হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি ছিল।

জেনেটিসিস্ট জন সুকারের মতে, এই প্রযুক্তি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এবং ভবিষ্যতে বার্ধক্যজনিত দুর্বলতা, হৃদরোগ, মাংসপেশির ক্ষয়সহ বিভিন্ন অবক্ষয়জনিত রোগের চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। তিনি বলেন, এটি কেবল শুরু—আগামী দিনে এই গবেষণা থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা–পদ্ধতির পথ তৈরি হতে পারে।

error: Content is protected !!