শিরোনাম

‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করলেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস

: অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০২৫-০৮-০৫
ছবি: সংগৃহীত

আগস্ট ২০২৫, মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের পর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে ঘোষণাপত্রটি উত্থাপন করা হয়।

ঘোষণাপত্রে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে সংবিধান কাঠামোর দুর্বলতা ও অপপ্রয়োগ, একদলীয় শাসন ব্যবস্থা, এবং পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক কাঠামোকে ভেঙে দেয়।

ঘোষণাপত্রে বলা হয়, বিগত সরকার নির্বাচনী প্রহসন, গুম-খুন, বাকস্বাধীনতা হরণ এবং বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনগণের অধিকার হরণ করেছে। বিশেষ করে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে বলা হয়, জনগণের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার মধ্য দিয়েই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।

এছাড়া ছাত্র-জনতার ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান, গণভবনমুখী লংমার্চ এবং সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। ঘোষণাপত্রে দাবি করা হয়, গণআন্দোলনের চাপে শেখ হাসিনা দেশত্যাগে বাধ্য হন এবং ৮ আগস্ট ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়।

ঘোষণাপত্রে আরও বলা হয়, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়ন কৌশল প্রণয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার সুরক্ষায় নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে ঘোষণাপত্রে ‘জুলাই অভ্যুত্থান ২০২৪’-কে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে শহীদদের ‘জাতীয় বীর’ ঘোষণার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

অবশেষে, গণতান্ত্রিক শাসন, সুশাসন, মানবাধিকার, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং একটি অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংসদ গঠনের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের আহ্বান জানানো হয়।

error: Content is protected !!