নগর পরিচালনায় গতি আনা এবং নাগরিক সেবাকে আরও সহজলভ্য করতে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) ৪২টি ওয়ার্ডকে পাঁচটি প্রশাসনিক অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ধারা ৪৭ অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশনের সেবা কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণ করে অঞ্চলভিত্তিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে, যাতে নাগরিকরা দ্রুত ও কার্যকর সেবা পান। নতুন কাঠামো অনুযায়ী সিসিকের ৪২টি ওয়ার্ড নিম্নরূপ পাঁচটি অঞ্চলে বিন্যস্ত করা হয়েছে—
অঞ্চল-১: ১, ২, ৩, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ড
এ অঞ্চলে দরগা মহল্লা, জিন্দাবাজার, আম্বরখানা, রিকাবীবাজার, বন্দরবাজার, লামাবাজার, চাঁদনীঘাট, কাজিরবাজারসহ নগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক এলাকাগুলো অন্তর্ভুক্ত।
অঞ্চল-২: ২১, ২২, ২৩, ২৪, ৩১, ৩২ ও ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড
গোপালটিলা, শিবগঞ্জ, উপশহর, শাহপরান, খাদিমপাড়া, ইসলামাবাদসহ দ্রুত বর্ধনশীল আবাসিক ও উপশহর এলাকাগুলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
অঞ্চল-৩: ১৬, ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ৩৪, ৩৫ ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড
এই অঞ্চলে আম্বরখানা পূর্ব, মিরবক্সটুলা, শাহী ঈদগাহ, রায়নগর, বালুচর, এমসি কলেজ এলাকা, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন অঞ্চলসহ শিক্ষা ও আবাসিক এলাকা রয়েছে।
অঞ্চল-৪: ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৩৭, ৩৮ ও ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড
হাউজিং এস্টেট, সুবিদবাজার, পাঠানটুলা, টিলারগাঁও, আখালিয়া, কুমারগাঁও, শাহপুরসহ নতুন ও পুরনো আবাসিক এলাকা এ অঞ্চলে পড়েছে।
অঞ্চল-৫: ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০, ৪০, ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ড
খোজারখলা, কদমতলী, গোটাটিকর, মোমিনখলা, কুশিঘাট, দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ আবাসিক ও আধা-শহুরে এলাকাগুলো এ অঞ্চলের আওতায় এসেছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী প্রতিটি অঞ্চলে নাগরিকদের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেবা নিশ্চিত করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে—
- প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা
- কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও হিসাব রক্ষণ
- সড়ক, ড্রেনসহ অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ
- প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও টিকাদান কর্মসূচি
- ভেজাল খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা
- জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন
- মশক নিধন কার্যক্রম
- পাবলিক টয়লেট, কবরস্থান ও শ্মশানঘাট রক্ষণাবেক্ষণ
- সিটি কর নির্ধারণ ও আদায়
- ট্রেড লাইসেন্স ও অন্যান্য ফি আদায়
- বাজার ব্যবস্থাপনা ও বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ
- বর্জ্য অপসারণ, ডাম্পিং ও ল্যান্ডফিল ব্যবস্থাপনা
- পার্ক, কমিউনিটি সেন্টার ও পাঠাগার পরিচালনা
- আত্মকর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম
- সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতদিন কেন্দ্রীয়ভাবে সব সেবা পরিচালনার কারণে অনেক ক্ষেত্রে ধীরগতি দেখা যেত। অঞ্চলভিত্তিক ব্যবস্থাপনা চালু হলে—
- দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হবে
- নাগরিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে
- জবাবদিহিতা ও তদারকি বাড়বে
- উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আসবে।