গণভোট ও সংসদ নির্বাচন একই দিনে: প্রধান উপদেষ্টা

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: 2025-11-13
ছবি সংগৃহীত

বহুল আলোচিত গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন।

ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটও আয়োজন করা হবে।

বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বিটিভি নিউজ ও বিটিভি ওয়ার্ল্ড এই ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করে।

গণভোট প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা জানান, চারটি বিষয়ে এক প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে মতামত নেওয়া হবে।

এর আগে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে গত ২৭ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দেয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। তবে গণভোটের দিনক্ষণ ও সনদে থাকা আপত্তি (নোট অব ডিসেন্ট) অন্তর্ভুক্ত না থাকায় বিএনপি, জামায়াতসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল বিপরীত অবস্থান নেয়।

এই প্রেক্ষাপটে সরকার ৩ অক্টোবর রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত দেওয়ার আহ্বান জানায়। জানানো হয়, দলগুলো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে সরকার নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো কোনো ঐক্যমত্যে পৌঁছাতে পারেনি।

এমন পরিস্থিতিতে আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠকের পর বেলা আড়াইটায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি গণভোটের বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।

এরই মধ্যে এই আদেশে সই করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দুটি বিকল্প সুপারিশ জমা দেয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। প্রথম প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ আদেশ জারি করে গণভোট আয়োজন করা হবে। গণভোটে প্রস্তাব পাস হলে আগামী জাতীয় সংসদ সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করবে এবং ২৭০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবে।

যদি নির্ধারিত সময়ে সংসদ এ কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হয়, তবে প্রস্তাবগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে যুক্ত হয়ে যাবে।

দ্বিতীয় বিকল্প সুপারিশটিও প্রায় একই রকম, তবে এতে শুধু বলা হয় ২৭০ দিনের মধ্যে সংস্কারকাজ শেষ করতে হবে; ব্যর্থ হলে কী হবে, তা উল্লেখ করা হয়নি।

গণভোটের সুনির্দিষ্ট সময় নির্ধারণের দায়িত্ব সরকারের ওপরই ছেড়ে দেয় ঐকমত্য কমিশন। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আগে থেকেই মতপার্থক্য ছিল, তবে কমিশনের সুপারিশ জমা দেওয়ার পর তা আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমতের অভাবে সরকার শেষ পর্যন্ত নিজ উদ্যোগেই গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়।

error: Content is protected !!