ইফতারে স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে ফলের জুসের গুরুত্ব

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: ২০২৬-০৩-০৮

রোজা ভাঙার সময় অনেকেই ইফতার শুরু করেন বিভিন্ন চিনিযুক্ত পানীয় দিয়ে। তবে এসব পানীয় শরীরের জন্য খুব একটা উপকারী নয়। পুষ্টিবিদরা বলছেন, ইফতারে কৃত্রিম বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয়ের পরিবর্তে ঘরে তৈরি ফলের জুস বা শরবত পান করা বেশি স্বাস্থ্যকর।

ইফতারে পানীয় হিসেবে বেল, আনারস, পেঁপে, তরমুজ, স্ট্রবেরি কিংবা তেঁতুলের শরবত বেশ উপকারী। এসব ফলে প্রাকৃতিক শর্করা, সামান্য প্রোটিন ও ফ্যাটের পাশাপাশি শরীরের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ উপাদান পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, পাকা পেঁপেতে প্রায় ১১ শতাংশ, পেয়ারায় ১৫ শতাংশ, আনারসে ১৪ শতাংশ, বেলে প্রায় ৩০ শতাংশ এবং তেঁতুলে প্রায় ৬০ শতাংশ কার্বোহাইড্রেট থাকে।

এ ছাড়া এসব ফলে বিটা ক্যারোটিন, ব্রমোলিন, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন সি, জিংক, পটাশিয়াম, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজসহ নানা প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে। ফলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ফাইবার ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট। অধিকাংশ ফলের গড়ে প্রায় ৭৫ শতাংশই জলীয় অংশ, যা শরীরকে আর্দ্র রাখতে সহায়তা করে।

ফলের জুসের উপকারিতা

দিনভর রোজা রাখার কারণে শরীরে রক্তের সুগারের মাত্রা কমে যেতে পারে। ফলের প্রাকৃতিক শর্করা ধীরে ধীরে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে শরীরে শক্তি জোগায়। ফলে ক্লান্তি দ্রুত দূর হয়।

ফলের পটাশিয়াম স্নায়ুকে সতেজ রাখে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এতে হৃদ্‌স্বাস্থ্যেরও উন্নতি হয়। একই সঙ্গে ফলের জলীয় অংশ শরীরের কোষকে সক্রিয় রাখে এবং শরীরের তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।

ফলে থাকা অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট শরীরে ক্ষতিকর ফ্রি র‍্যাডিক্যাল তৈরি হতে বাধা দেয় এবং মৃত কোষ অপসারণে সাহায্য করে। অন্যদিকে ফলের ফাইবার অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটায়, ফলে অ্যাসিডিটি, কোষ্ঠকাঠিন্য ও বদহজমের মতো সমস্যা কমে।

গরমের দিনে শুধু বেশি পানি পান করলেই হয় না, শরীরে সেই পানি ধরে রাখাও প্রয়োজন। ফলের ফাইবার এই কাজে সহায়তা করে। এ ছাড়া ফলের আয়রন, ভিটামিন সি, জিংক ও ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ত্বক ও চুলের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। বিটা ক্যারোটিন চোখের রেটিনার সুরক্ষা দেয় এবং ফল শরীরে ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল এইচডিএল বাড়াতে সহায়তা করে।

কিছু সতর্কতা

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলে পরিমিত পরিমাণে ফলের রস পান করতে পারেন। কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে ফল নির্বাচন করার আগে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফল জুস করে খাওয়ার চেয়ে খোসাসহ চিবিয়ে খেলে পুষ্টিগুণ বেশি পাওয়া যায়। আর ইফতারের জন্য ফলের জুস সাধারণত ৫–১০ মিনিট আগে তৈরি করাই ভালো। অনেক আগে তৈরি করে রাখলে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

যাদের অ্যাসিডিটির সমস্যা আছে, তাদের জন্য তেঁতুলের শরবত এড়িয়ে চলা ভালো।

error: Content is protected !!