চেয়ারম্যান-মেম্বার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে যা জানা গেল

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: 2026-08-01
ছবি: সংগৃহীত

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতার জন্য এইচএসসি এবং সদস্য (মেম্বার) পদে এসএসসি সনদের মূল কপি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক—এমন একটি দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি নির্বাচন কমিশন সচিবের বরাত দিয়েও দাবিটি প্রচার করা হচ্ছে। তবে যাচাই করে এর সত্যতা পাওয়া যায়নি।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ইউপি নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক’—এমন দাবিসংবলিত বিভিন্ন পোস্ট, ফটোকার্ড ও একটি জাতীয় দৈনিকের পেপার কাটিং ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়, চেয়ারম্যান পদে এইচএসসি এবং মেম্বার পদে এসএসসি সনদের মূল কপি ছাড়া মনোনয়নপত্র বাতিল করা হবে।

গত ২৮ জুলাই ‘Md Mohiuddin’ নামের একটি ফেসবুক পেজে এমন একটি পোস্ট শেয়ার করা হয়। ৩১ জুলাই দুপুর ১২টা পর্যন্ত পোস্টটিতে প্রায় দুই হাজার রিঅ্যাকশন, ৩৪৭টি মন্তব্য এবং ৩৩৮টি শেয়ার দেখা যায়। পোস্টটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে দাবিটিকে স্বাগত জানালেও কেউ কেউ এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

দাবিটির সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কি-ওয়ার্ডে অনুসন্ধান চালানো হয়। তবে দেশের মূলধারার কোনো গণমাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের এমন সিদ্ধান্তের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে প্রার্থিতার ক্ষেত্রে এ ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণসংক্রান্ত কোনো প্রজ্ঞাপন বা নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া ২০০৯ সালের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন পর্যালোচনা করেও এমন দাবির কোনো আইনি ভিত্তি পাওয়া যায়নি। ওই আইনের ২৬ ধারায় ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলেও বিদ্যমান আইনে একজন ব্যক্তি ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে পারেন।

তবে ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়টি বর্তমানে আদালতের বিবেচনায় রয়েছে। গত ২২ জুলাই ‘ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিশ্চিত করতে নির্দেশ কেন নয়’—এমন প্রশ্নে হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেন। দুই আইনজীবীর করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত এ রুল দেন। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকারসচিব, আইনসচিব ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়।

রিটে বলা হয়েছে, ইউপি চেয়ারম্যানরা গ্রাম আদালত আইনের আওতায় বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগের পাশাপাশি জরিমানা আরোপসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। এসব দায়িত্ব পালনের জন্য চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন বলে রিটকারীরা দাবি করেছেন। এ কারণে ২০০৯ সালের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইনের সংশ্লিষ্ট ধারার পরিবর্তনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

এদিকে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। হাইকোর্টের রুল পর্যালোচনার পর বিদ্যমান আইন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর আইন এবং এ-সংক্রান্ত আগের আদালতের রায় বা নির্দেশনা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সুতরাং, বর্তমানে কার্যকর আইনে ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে এইচএসসি বা স্নাতক পাস বাধ্যতামূলক নয়। একইভাবে ইউপি সদস্য পদে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় এসএসসি সনদের মূল কপি জমা না দিলে মনোনয়ন বাতিল হবে—এমন কোনো বিধানও নেই। ফলে নির্বাচন কমিশন সচিবের বরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবিটি সঠিক নয়।

error: Content is protected !!