মিনায় জামারাতে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ, হজের গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: ২০২৬-০৫-২৭
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহার প্রথম দিনে মিনার জামারাত প্রাঙ্গণে শয়তানের প্রতীকী স্তম্ভে পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে হজের গুরুত্বপূর্ণ একটি ওয়াজিব পালন করেছেন লাখো মুসলিম হাজি। বুধবার ভোর থেকে ‘লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো জামারাত এলাকা।

সৌদি আরবের পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশি-বিদেশি মিলিয়ে মোট ১৭ লাখ ৭ হাজার ২০১ জন মুসল্লি হজ পালন করছেন। এর মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছেন ১৫ লাখ ৪৬ হাজার ৬৫৫ জন এবং সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ নাগরিক ও বাসিন্দা রয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৬৪৬ জন। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) এ তথ্য জানিয়েছে।

হজের নিয়ম অনুযায়ী, মঙ্গলবার আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের পর সূর্যাস্তের পরে হাজিরা মুজদালিফার উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে তারা মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করেন এবং রাত যাপন করেন। একই সঙ্গে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের জন্য ছোট ছোট কঙ্কর সংগ্রহ করেন।

ফজরের নামাজের পর বুধবার সকালে হাজিরা মিনায় পৌঁছে বড় শয়তানের প্রতীক ‘জামারাতুল আকাবা’য় সাতটি করে পাথর নিক্ষেপ করেন। ইসলামী ইতিহাস অনুযায়ী, হজরত ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহর নির্দেশ পালন করতে গিয়ে শয়তানের প্ররোচনাকে প্রতিহত করতে পাথর নিক্ষেপ করেছিলেন। সেই ঘটনার স্মরণেই হজের অংশ হিসেবে এই প্রতীকী রীতি পালন করা হয়।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আধুনিক জামারাত কমপ্লেক্স, বহুতল ব্যবস্থা এবং আলাদা প্রবেশ-বহির্গমন পথের কারণে এবার হাজিরা স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপদ পরিবেশে পাথর নিক্ষেপ সম্পন্ন করতে পেরেছেন। পুরো এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী, স্বাস্থ্যকর্মী, সিভিল ডিফেন্স ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন।

পাথর নিক্ষেপের পর হাজিরা কোরবানি, মাথা মুণ্ডন বা চুল ছাঁটার মাধ্যমে ইহরামের বিধিনিষেধ থেকে আংশিক মুক্ত হন। এরপর তারা মসজিদুল হারামে গিয়ে হজের ফরজ তাওয়াফে জিয়ারাহ আদায় করবেন।

এদিকে আগামী কয়েকদিন, যা ‘আইয়ামে তাশরিক’ নামে পরিচিত, হাজিরা মিনায় অবস্থান করে ছোট, মেজো ও বড়—তিন জামারাতেই প্রতিদিন সাতটি করে পাথর নিক্ষেপ করবেন। সবশেষে বিদায়ী তাওয়াফ সম্পন্নের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা।

error: Content is protected !!