নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে একটি বহুতল অফিস ভবনে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন পুলিশ সদস্যসহ চারজন নিহত হয়েছেন। সন্দেহভাজন হামলাকারীকেও মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।
নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র এরিক অ্যাডামস জানান, নিহত পুলিশ সদস্য দিদারুল ইসলাম (৩৬) সাড়ে তিন বছর ধরে নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগে (এনওয়াইপিডি) কর্মরত ছিলেন। তিনি একজন বাংলাদেশি অভিবাসী ছিলেন। মেয়র আরও জানান, হামলায় পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজন প্রাণ হারিয়েছেন।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, দিদারুল ইসলাম বিবাহিত এবং তার দুটি সন্তান রয়েছে। তার স্ত্রী তৃতীয় সন্তানের মা হতে চলেছেন। পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা তাকে ‘একজন বীর’ হিসেবে সম্মান জানিয়েছেন।
হামলার সময় বন্দুকধারী একটি রাইফেল হাতে ম্যানহাটনের একটি উচ্চ ভবনে ঢুকে পড়েন এবং দিদারুলসহ চারজনকে গুলি করে হত্যা করেন। সন্দেহভাজন ব্যক্তি, ২৭ বছর বয়সী শেন তামুরাকেও পরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি চারজনকে গুলি করে হত্যার পর নিজেই আত্মহত্যা করেছেন।

বন্দুকধারী যে ভবনে ঢুকে গুলি চালান, সেটি এনএফএল এবং ব্ল্যাকস্টোনের প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ৩৪৫ পার্ক এভিনিউয়ের এই টাওয়ারটিতে ডয়চে ব্যাংক, কেপিএমজি, ব্ল্যাকস্টোন এবং আয়ারল্যান্ডের কনস্যুলেট জেনারেলের অফিসসহ আরও কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবস্থিত। হামলার পরপরই পুরো এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে, অর্থাৎ যুক্তরাজ্যের রাত ১১টা ৩০ মিনিটে, বন্দুকধারী একটি স্পোর্টস কোট, শার্ট এবং বড় অ্যাসল্ট রাইফেল হাতে ভবনে প্রবেশ করেন। নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে সেই দৃশ্য ধরা পড়ে। পরে ৪৪ তলা ভবনের ৩৩তম তলায় তার মরদেহ পাওয়া যায়।
ঘটনাস্থলে থাকা বিবিসির একজন সাংবাদিক জানান, ‘আমি দেখেছি একজন ব্যক্তিকে স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, যার বুকে ব্যান্ডেজ বাঁধা ছিল।’ অনেকেই নিচে খাবার কিনছিলেন, তখনই বিকট শব্দ শুনে আতঙ্কে দৌড়াতে শুরু করেন।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, সন্দেহভাজন শেন তামুরা লাস ভেগাসের বাসিন্দা এবং তার কাছে নেভাদা রাজ্যের ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল। তার গাড়ি থেকে এম-ফোর রাইফেল, একটি রিভলবার ও গুলিভর্তি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে।
নিউ ইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ এক্সে (সাবেক টুইটার) এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, হামলাকারী নিহত হয়েছে এবং ঘটনাস্থল এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
নিউ ইয়র্কের মেয়র এরিক অ্যাডামস ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘গুলিতে একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তাদের কারও অবস্থা কতটা গুরুতর, তা এখনো নিশ্চিত নয়।’ সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, সন্দেহভাজনের অতীতে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড পাওয়া যায়নি, তবে লাস ভেগাস কর্তৃপক্ষের মতে, তার মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পূর্ব ইতিহাস রয়েছে।
ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত নয় পুলিশ। হামলার তদন্তে এফবিআইয়ের নিউ ইয়র্ক ফিল্ড অফিস সহায়তা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর চাক শুমার এবং কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ড সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনার প্রতি শোক প্রকাশ করেছেন।
