ক্যানসার বা কর্কটরোগ মূলত অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজনের কারণে ঘটে। প্রাণঘাতী এই রোগের নাম শুনলেই ভয়ের সঞ্চার হয়, কারণ এখনো পর্যন্ত এতে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে অনেক রোগী সফলভাবে চিকিৎসা গ্রহণ করে দীর্ঘ জীবন পেয়ে থাকেন।
চিকিৎসকেরা বলছেন, বেশিরভাগ ক্যানসারই চিকিৎসাযোগ্য। কিন্তু সমস্যা হলো—আমরা প্রায়ই ছোটখাটো উপসর্গকে অবহেলা করি। অথচ এসব প্রাথমিক লক্ষণই ক্যানসার শনাক্তকরণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ জীবনে এমন কিছু উপসর্গে ভুগেছেন যা ক্যানসারের সম্ভাব্য ইঙ্গিত বহন করত। কিন্তু মাত্র অল্প কয়েকজন গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসকের কাছে গিয়েছেন। অনেকে আবার ভেবেছেন, চিকিৎসকের সময় নষ্ট করবেন কিংবা স্বাস্থ্যব্যবস্থার সম্পদ ব্যয় হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি কোনো উপসর্গ দীর্ঘদিন স্থায়ী হয় বা হঠাৎ দেখা দেয় এবং সহজে না সারে, সেটিকে অবহেলা করা উচিত নয়। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সর্বোত্তম।
কারণ ছাড়া ওজন কমা
হঠাৎ এবং ব্যাখ্যাতীতভাবে ৫ কেজি বা তার বেশি ওজন কমে গেলে সতর্ক হতে হবে। বিশেষ করে অগ্ন্যাশয়, পাকস্থলি, খাদ্যনালি ও ফুসফুসের ক্যানসারে এই লক্ষণ বেশি দেখা যায়।
জ্বর
অনেক সময় ক্যানসার শরীরে ছড়িয়ে পড়ার পর জ্বর দেখা দেয়। আবার লিউকেমিয়া বা লিম্ফোমার মতো ক্যানসারের প্রাথমিক উপসর্গ হিসেবেও জ্বর হতে পারে।
অতিরিক্ত ক্লান্তি
বিশ্রাম নেওয়ার পরও যদি ক্লান্তি না কমে, সেটি ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। লিউকেমিয়া, কোলন বা পাকস্থলির ক্যানসারে প্রায়ই এমন উপসর্গ দেখা যায়।
ত্বকে পরিবর্তন
শুধু ত্বকের ক্যানসার নয়, অন্য ক্যানসারেও ত্বকের রঙ কালো হওয়া, জন্ডিস, লালচে দাগ, চুলকানি বা অস্বাভাবিক লোম বৃদ্ধি হতে পারে।
অন্ত্র বা মূত্রাশয়ের ক্রিয়ায় পরিবর্তন
দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া বা মলের আকারে অস্বাভাবিকতা মলাশয়ের ক্যানসারের লক্ষণ। প্রস্রাবে রক্ত, প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা মূত্রত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন প্রোস্টেট বা মূত্রাশয়ের ক্যানসারের ইঙ্গিত হতে পারে।
ক্ষত সেরে না ওঠা
শরীরের যেকোনো ক্ষত চার সপ্তাহ পরও না সেরে উঠলে সেটি বিপদের লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে মুখে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত মুখগহ্বরের ক্যানসারের ইঙ্গিত দেয়।
দেহের কোনো অংশ শক্ত হয়ে যাওয়া
স্তন, অণ্ডকোষ, লসিকা গ্রন্থি বা শরীরের নরম টিস্যুতে শক্ত ভাব বা গুটি অনুভব করলে সতর্ক হতে হবে।
অস্বাভাবিক রক্তপাত
কাশির সঙ্গে রক্ত ফুসফুসের ক্যানসার, আর মলের সঙ্গে রক্ত মলাশয় বা মলদ্বারের ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।
টানা কাশি বা কণ্ঠস্বরে পরিবর্তন
তিন সপ্তাহের বেশি সময় কাশি চলতে থাকলে বা কণ্ঠস্বর ভেঙে গেলে তা ফুসফুস, স্বরযন্ত্র বা থাইরয়েড ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।
গিলতে অসুবিধা
বারবার বদহজম বা খাবার গিলতে সমস্যা হলে খাদ্যনালি, পাকস্থলি বা গলার ক্যানসারের সম্ভাবনা থাকতে পারে।
এই উপসর্গগুলো সবসময় ক্যানসারের কারণে নাও হতে পারে। তবে যদি এগুলো স্থায়ী হয় বা বাড়তে থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে ক্যানসার মোকাবিলা করা অনেক সহজ হয়।
