মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক মুহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী-এর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

: অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 2026-02-16

মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে অবিস্মরণীয় ভূমিকা রাখা বীর সেনানায়ক মুহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী-এর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ৬৫ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন।

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার সংলগ্ন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। দিনটি উপলক্ষে তার জন্মভূমি সিলেট এবং রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিলসহ নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে আজ বেলা ১১টায় রাওয়ার হেলমেট হলে আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

১৯১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন ওসমানী। ১৯৩৯ সালে ভূগোলে এমএ প্রথম পর্বে অধ্যয়নকালে তিনি ব্রিটিশ-ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। পরবর্তীতে ১৯৪০ সালের ৫ অক্টোবর দেরাদুন সামরিক একাডেমি থেকে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়ে কিং কমিশন লাভ করেন। ১৯৪১ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি পান এবং পরের বছর ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটিশ আর্মির সর্বকনিষ্ঠ মেজর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মাত্র ২৩ বছর বয়সে একটি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক হয়ে তিনি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত তিনি মিয়ানমারের (বার্মা) রণাঙ্গনে স্বতন্ত্র যান্ত্রিক পরিবহন ইউনিটের নেতৃত্ব দেন। ১৯৪৫ সালে আইসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও তিনি সামরিক জীবনই অব্যাহত রাখেন। ভারত উপমহাদেশ বিভক্তির পর ১৯৪৭ সালের ৭ অক্টোবর লেফটেন্যান্ট কর্নেল হিসেবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৪৮ সালে কোয়েটা স্টাফ কলেজ থেকে পিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনকালে তিনি জেনারেল স্টাফ অফিসার ও পরবর্তীতে ডেপুটি ডিরেক্টর পদে কাজ করেন। আন্তর্জাতিক সামরিক জোট সিয়াটো ও সেন্টোতেও পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে দক্ষতার সঙ্গে সামরিক অপারেশন পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। স্বাধীনচেতা বাঙালি সেনা কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ওসমানী ১৯৬৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কর্নেল পদে অবসর গ্রহণ করেন।

পরবর্তীতে ১৯৭০ সালে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ-বিশ্বনাথ এলাকা থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি মুক্তিবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে অসামান্য নেতৃত্ব দেন। স্বাধীনতার পর নবগঠিত বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেন এই বীর সেনানায়ক।

error: Content is protected !!