শিরোনাম

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল: জিপিএ-৫ পেলেও কলেজ মেলেনি ৫ হাজার ৭৬৫ শিক্ষার্থীর

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: ২০২৫-০৮-২১
ছবি সংগৃহীত

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইন ভর্তি আবেদনের প্রথম ধাপের ফল প্রকাশিত হয়েছে। ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সারাদেশে ২৫ হাজার ৩৩ জন শিক্ষার্থী পছন্দের কলেজে ভর্তির সুযোগ পায়নি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ পেয়েও ৫ হাজার ৭৬৫ জন শিক্ষার্থী প্রথম ধাপে কোনো কলেজে মনোনয়ন পায়নি। এ ছাড়া ৩৭৮টি কলেজে একজন শিক্ষার্থীও ভর্তির মনোনয়ন পায়নি, আর ১০টি কলেজে ভর্তির জন্য আবেদনই করেনি কেউ।

গতকাল রাতে একাদশ শ্রেণি ভর্তির কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটে এ ফল প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল এসএমএসের মাধ্যমেও জানানো হয়েছে।

ফল অনুযায়ী, ভর্তির জন্য আবেদন করে ফি জমা দিয়েছে ১০ লাখ ৪৭ হাজার ৯৬২ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৯৮ শতাংশ শিক্ষার্থী মনোনয়ন পেয়েছে, আর বাকি ২ শতাংশ কোনো কলেজ পায়নি। সারাদেশের ভর্তিযোগ্য কলেজগুলোর মধ্যে ৯৫ শতাংশ কলেজে শিক্ষার্থী মনোনয়ন হয়েছে, তবে বাকি ৫ শতাংশ কলেজে একজন শিক্ষার্থীও পাওয়া যায়নি।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, চলতি শিক্ষাবর্ষে অনলাইন আবেদন শুরু হয় ৩০ জুলাই এবং শেষ হয় ১৫ আগস্ট রাত ৮টায়। এ সময়ে মোট আবেদন জমা পড়ে ১০ লাখ ৭৭ হাজার ৫৮২টি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ আবেদন এসেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে—২ লাখ ২৯ হাজার ৫৪৩টি। মাদ্রাসা বোর্ডে আবেদন করেছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৮২ জন শিক্ষার্থী এবং দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করেছে ১ লাখ ২৯ হাজার ১৪ জন।

প্রতিষ্ঠানভিত্তিক আবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজে। ৯৭১ আসনের বিপরীতে এখানে আবেদন জমা পড়ে ৩৬ হাজারেরও বেশি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, যেখানে আবেদন পড়েছে প্রায় ৩৫ হাজার।

কলেজ না পাওয়া শিক্ষার্থীদের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক রিজাউল হক বলেন, “অনেক শিক্ষার্থী কেবল ভালো মানের কলেজেই পছন্দ দিয়েছে, কিন্তু নিজেদের ফলাফল বিবেচনায় রাখেনি। তবে আসন সংকট নেই। যারা প্রথম ধাপে কলেজ পায়নি, তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে দ্বিতীয় ধাপে চলে যাবে। শিক্ষার্থীদের প্রতি পরামর্শ থাকবে, নতুন করে কিছু কলেজ পছন্দক্রমে যোগ করতে।”

বোর্ড জানিয়েছে, দ্বিতীয় ধাপের আবেদন গ্রহণ করা হবে ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট এবং ফল প্রকাশ হবে ২৮ আগস্ট। এরপর ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর তৃতীয় ধাপের আবেদন গ্রহণ করা হবে। সবশেষে ৭ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভর্তি কার্যক্রম শেষ করে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে।

উল্লেখ্য, গত শিক্ষাবর্ষে প্রথম ধাপে ৪৮ হাজার শিক্ষার্থী কোনো কলেজ পায়নি। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী ছিল সাড়ে ৮ হাজার। তখন ২২০টি কলেজে একজন শিক্ষার্থীও মনোনয়ন পায়নি।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয় গত ১০ জুলাই। এবার গড় পাসের হার এবং জিপিএ-৫ দুটিই কমেছে। বেড়েছে অকৃতকার্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এবং কমেছে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ লাখ ৪ হাজার ৮৬ জন, এর মধ্যে পাস করেছে ১৩ লাখ ৩ হাজার ৪২৬ জন। অর্থাৎ ৬ লাখের বেশি শিক্ষার্থী এবারও উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

error: Content is protected !!