বার্ধক্যজনিত রোগ মোকাবিলায় নতুন দিগন্ত খুলল গবেষণা

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: ২০২৬-০৩-২৩
ছবি: সংগৃহীত

বার্ধক্য ধীর করার নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসভিত্তিক একদল গবেষক। তাদের দাবি, এই পদ্ধতিতে কোষের ভেতরের শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করে বার্ধক্যের প্রভাব কমানো সম্ভব। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমসংবাদ প্রতিদিন-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।গবেষণায় বলা হয়, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানবদেহের কোষে থাকা মাইটোকন্ড্রিয়ার সংখ্যা ও কার্যক্ষমতা কমে যায়। এর ফলে হৃদরোগ, স্নায়ুজনিত জটিলতা এবং অন্যান্য বার্ধক্যজনিত রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এই সমস্যা সমাধানে বিজ্ঞানীরা ‘ন্যানোফ্লাওয়ার’ নামে বিশেষ ধরনের অতিক্ষুদ্র কণা তৈরি করেছেন।

ফুলের মতো গঠনের এই ন্যানোফ্লাওয়ারগুলো কোষের ক্ষতিকর রিঅ্যাকটিভ অক্সিজেন স্পিসিস (ROS) শোষণ করে এবং এমন জিন সক্রিয় করে, যা নতুন মাইটোকন্ড্রিয়া তৈরিতে সহায়তা করে। মলিবডেনাম ডাইসালফাইড দিয়ে তৈরি এই কণাগুলোর ছিদ্রযুক্ত গঠন স্পঞ্জের মতো কাজ করে, যা ক্ষতিকর উপাদানগুলোকে শোষণ করে কোষের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে।

গবেষণার সঙ্গে যুক্ত বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার অখিলেশ গাহারওয়ার জানান, সুস্থ কোষকে এমনভাবে ‘প্রশিক্ষণ’ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা দুর্বল কোষগুলোর সঙ্গে মাইটোকন্ড্রিয়া ভাগ করে নিতে পারে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কোষ পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—এই প্রক্রিয়ায় কোনো জেনেটিক পরিবর্তন বা ওষুধ প্রয়োগের প্রয়োজন হয়নি।

গবেষকরা আরও জানান, সাধারণত স্টেম সেল প্রতিবেশী কোষের সঙ্গে মাইটোকন্ড্রিয়া বিনিময় করে থাকে। তবে ন্যানোফ্লাওয়ার ব্যবহারে এই বিনিময়ের হার প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে, ফলে কোষের শক্তি পুনরুদ্ধারের ক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, স্মুথ মাংসপেশির কোষে শক্তি উৎপাদন ৩ থেকে ৪ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। পাশাপাশি কেমোথেরাপিতে ক্ষতিগ্রস্ত হৃদপেশির কোষের টিকে থাকার হারও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে বার্ধক্যজনিত দুর্বলতা, হৃদরোগ, মাংসপেশির ক্ষয় এবং অন্যান্য অবক্ষয়জনিত রোগের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। জেনেটিসিস্ট জন সুকারের ভাষায়, এটি একটি সম্ভাবনাময় সূচনা, যা নিয়ে আরও গবেষণা হলে চিকিৎসা বিজ্ঞানে বড় ধরনের অগ্রগতি দেখা যেতে পারে।

error: Content is protected !!