পবিত্র রমজান মাসে দীর্ঘ সময় রোজা রাখার কারণে শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেহরি থেকে ইফতার পর্যন্ত না খেয়ে-না পান করে থাকার ফলে অনেকেই তৃষ্ণা, ক্লান্তি ও পানিশূন্যতার সমস্যায় পড়েন। বিশেষ করে এ বছর রমজান শীতের শেষভাগ ও গরমের শুরুতে হওয়ায় দিনে তাপমাত্রা কিছুটা বেশি থাকছে, যা ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
তাই রোজার সময় শরীরকে সুস্থ ও সতেজ রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিবিদদের মতে, ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ধাপে ধাপে পানি পান করলে শরীর সহজে হাইড্রেট থাকে এবং পানিশূন্যতার ঝুঁকি কমে।
পুষ্টিবিদ রোকসানা তনুর পরামর্শ অনুযায়ী, ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত মোটামুটি ১০ থেকে ১২ গ্লাস বা প্রায় ২ থেকে ৩ লিটার তরল গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে একবারে অনেক পানি পান না করে অল্প অল্প করে বিরতি দিয়ে পান করা বেশি উপকারী। এতে শরীর সহজে পানি শোষণ করতে পারে এবং অস্বস্তি কম হয়।
রমজানে পানি পানের একটি সহজ নিয়ম হিসেবে তিনি ‘৪-২-২-২ প্যাটার্ন’ অনুসরণের কথা বলেছেন। এই পদ্ধতিতে ইফতারের সময় ৪ গ্লাস পানি পান করা যেতে পারে। এরপর মাগরিবের নামাজের পর ২ গ্লাস, রাতের খাবারের পর আরও ২ গ্লাস এবং সেহরির সময় ২ গ্লাস পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে ধাপে ধাপে পানি পান করলে শরীর দীর্ঘ সময় হাইড্রেট থাকে। একই সঙ্গে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা বা অতিরিক্ত ক্লান্তির মতো সমস্যা কিছুটা কমে যেতে পারে। এছাড়া পর্যাপ্ত পানি শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখা, হজম প্রক্রিয়া ঠিক রাখা এবং ত্বক ও কিডনির সুস্থতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ছবি: সংগৃহীত
