শিরোনাম

সিলেটে হাম-রুবেলার সংক্রমণ বেড়েছে, ২৪ ঘণ্টায় ৩৬ রোগী ভর্তি, তিন শিশুর মৃত্যু

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: ২০২৬-০৪-১২

সিলেট বিভাগে হঠাৎ করেই হামরুবেলা সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে গেছে। উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে রোগী ভর্তির চাপও বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৬ জন সন্দেহজনক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে পরীক্ষাগারে একজনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ৪২ জনের শরীরে ল্যাব পরীক্ষায় হামের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সিলেট জেলাে ১০ জন, মৌলভীবাজারে ১৪ জন, সুনামগঞ্জে ১১ জন এবং হবিগঞ্জে ৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। পাশাপাশি দুইজনের শরীরে রুবেলা শনাক্ত হয়েছে।

বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ১১০ জন সন্দেহজনক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে সর্বোচ্চ ৬০ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৬ জন এবং সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯ জন রোগী ভর্তি আছেন। এছাড়া সুনামগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, জগন্নাথপুর, বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অন্য রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এদিকে, হামের প্রকোপে গত কয়েক দিনে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ৬ এপ্রিল দুই মাস বয়সী ফারহান, ৮ এপ্রিল আরিশা এবং ১১ এপ্রিল সাত মাস বয়সী দিব্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। মৃত তিন শিশুরই বয়স এক বছরের কম ছিল।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য বিভাগ চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশুদের জন্য পিআইসিইউ বেড সংখ্যা ৫টি থেকে বাড়িয়ে ১০টিতে উন্নীত করা হয়েছে।

ওষুধ সংকটের অভিযোগ অস্বীকার করে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, হামের চিকিৎসা মূলত উপসর্গভিত্তিক এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ, নেবুলাইজার ও অক্সিজেন পর্যাপ্ত রয়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ৬ মাস বয়স থেকেই শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ২০ মে থেকে সিলেট বিভাগজুড়ে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে, যার প্রস্তুতিও চলছে।

অন্যদিকে, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে হামের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের এলাকায় কোনো রোগীর শরীরে ল্যাবে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়নি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, শিশুদের জ্বর বা হামের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে যোগাযোগ করার জন্য।

error: Content is protected !!