শিরোনাম

সিলেট ও আশপাশের নদ-নদীতে পানি হ্রাস, কুশিয়ারার পানি এখনও বিপদসীমার ওপরে

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: ২০২৫-০৬-০৯

সিলেট, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি সমতলে হ্রাস পাচ্ছে। বিশেষ করে সুরমা-কুশিয়ারা নদী এবং সুনামগঞ্জের কুশিয়ারা নদীর পানির স্তর কমতে শুরু করেছে। তবে এখনও কুশিয়ারা নদীর অমলশীদ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিপদসীমার নিচে নেমে আসতে পারে। আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত এ নদীগুলোর পানি হ্রাসের ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।

রোববার (৮ জুন) সকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হানের স্বাক্ষরিত ৪৮ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

অন্যান্য নদ-নদীর পরিস্থিতি:

ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদী:
এ দুই নদীর পানিও হ্রাস পাচ্ছে এবং বর্তমানে তা বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৫ দিন পর্যন্ত এ হ্রাস অব্যাহত থাকতে পারে।

গঙ্গা ও পদ্মা নদী:
গঙ্গা নদীর পানি কমছে, আর পদ্মা নদীর পানির স্তর স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী চার দিনের মধ্যে এ দুই নদীর পানি হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার নিচে থাকতে পারে।

তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদী (রংপুর বিভাগ):
এই নদীগুলোর পানি কমছে এবং তা বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত এ ধারা বজায় থাকতে পারে। এ অঞ্চলে আগামী দুই দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

টাঙ্গন, আপার আত্রাই, পুনর্ভবা, ঘাঘট, করতোয়া ও যমুনেশ্বরী নদী (রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ):
টাঙ্গন ও আপার আত্রাই নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। অন্যদিকে, পুনর্ভবা, ঘাঘট, করতোয়া ও যমুনেশ্বরীর পানি কমছে এবং সবগুলোই বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ অঞ্চলেও আগামী দুই দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল:
ঢাকা জেলার টঙ্গী খাল, তুরাগ ও বালু নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল রয়েছে, তবে বুড়িগঙ্গা নদীর পানি সামান্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। সব নদীর পানিই বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এখানেও আগামী দুই দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

সিলেট বিভাগের যাদুকাটা, সারিগোয়াইন, মনু, ধলাই ও খোয়াই নদী:
এসব নদীর পানির স্তর হ্রাস পাচ্ছে এবং সবকটিই বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী দুই দিন এই অববাহিকায়ও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

সতর্কবার্তায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি হ্রাস পাচ্ছে, তবে কিছু কিছু পয়েন্টে এখনও ঝুঁকি রয়েছে। তাই নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদেরকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

error: Content is protected !!