ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে গ্রামাঞ্চলের ডেঙ্গু, ঝুঁকিতে অন্তত ১০ জেলা

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: ২০২৫-০৭-২০
ছবি সংগৃহীত

একসময় শহুরে রোগ হিসেবে পরিচিত ডেঙ্গু এখন গ্রাম-গঞ্জেও ছড়িয়ে পড়েছে। চলতি বছর ঢাকার চেয়ে ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতেই আক্রান্তের হার বেশি। বরিশাল বিভাগে পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। এক বরগুনা জেলাতেই আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের চেয়েও বেশি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৬ হাজার ৩৯৫ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার বাইরে আক্রান্ত হয়েছেন ১২ হাজার ৮৫৬ জন, যা মোট শনাক্তের প্রায় ৭৮ শতাংশ। শুধু বরগুনাতেই রোগী ৩ হাজার ৯৫৭ জন এবং বরিশাল বিভাগে ৬ হাজার ৬৪৪ জন, যা দেশের অন্য সব বিভাগকে ছাড়িয়ে গেছে।

তবে ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেই। অধিকাংশ জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে শয্যা, বাজেট ও জনবল সংকটে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চঝুঁকির জেলাগুলোকে ঘিরে এখনই কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া না হলে আগামী কয়েক দশক ধরে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ডেঙ্গুর ভয়াবহতায় ভুগতে পারে।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) পরিচালিত জরিপ অনুযায়ী, ঢাকার বাইরে ঝিনাইদহ, মাগুরা, পিরোজপুর ও পটুয়াখালী পৌর এলাকায় এডিস মশার উপস্থিতি আশঙ্কাজনক। এসব এলাকায় ব্রুটো ইনডেক্স ২০ শতাংশ ছাড়িয়েছে, যা ডেঙ্গু বিস্তারের জন্য মারাত্মক সতর্কবার্তা। বরগুনার গ্রামীণ এলাকায় ৭৬ শতাংশ বাড়িতেই মশার লার্ভা পাওয়া গেছে।

গত পাঁচ বছরে ডেঙ্গুর ভৌগোলিক বিস্তারে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০২১ সালে ঢাকায় শনাক্ত রোগীর হার ছিল ৮৩ শতাংশ, আর ২০২৪ সালে তা কমে ৩৯ শতাংশে নেমে এসেছে। এর বিপরীতে ঢাকার বাইরের রোগীর হার বেড়ে ৬১ শতাংশে পৌঁছেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই জরুরি ভিত্তিতে গ্রামীণ এলাকায় এডিস নিয়ন্ত্রণে পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে দেশের স্বাস্থ্য খাতকে দীর্ঘমেয়াদি চাপে পড়তে হবে।

error: Content is protected !!