শিরোনাম

দেশে ২৫ শতাংশের বেশি মানুষ যে অ্যালার্জিতে আক্রান্ত, কীভাবে এড়াবেন?

: জুবায়ের আহমদ
প্রকাশ: ২০২৫-০৬-০৫

অ্যালার্জি হলো দেহের এমন এক অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া যা নির্দিষ্ট কোনো বস্তুর সংস্পর্শে এসে শুরু হয়। যখন অ্যালার্জির কারণে নাকের ভিতরে প্রদাহ দেখা দেয়, তখন তাকে বলা হয় অ্যালার্জিক রাইনাইটিস। এর মৌসুমি ধরনের অ্যালার্জিক রাইনাইটিসকে ‘হে ফিভার’ নামে পরিচিত। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে প্রায় ২৫ শতাংশের বেশি মানুষ অ্যালার্জিক রাইনাইটিসে ভুগছেন, যা একটি উদ্বেগজনক বিষয়।

অ্যালার্জিক রাইনাইটিস যেকোনো বয়সে হতে পারে। আগের ধারণা ছিল, দুই বছরের নিচে শিশুদের এই রোগ হয় না, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে নাকের প্রদাহ কম বয়সী শিশুতেও হতে পারে। গর্ভাবস্থায় মহিলাদের মধ্যে অ্যালার্জি এবং সর্দির মাত্রা বেড়ে যায়, যা স্বাভাবিক থেকে বেশি কষ্টদায়ক হতে পারে।

অ্যালার্জির লক্ষণগুলো হলো:

  • নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া বা নাক দিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস না পাওয়া

  • বারবার হাঁচি আসা

  • নাক ও চোখ দিয়ে পানি পড়া

  • চোখের চারপাশে ফোলাভাব এবং লালচে ভাব

  • নাকের ভিতরে চুলকানি বা জ্বালা

কোন কারণে অ্যালার্জি হয়?

অ্যালার্জির পেছনে জিনগত ও পরিবেশগত অনেক কারণ থাকতে পারে। বিভিন্ন ধরণের ধুলাবালু, ফুলের রেণু, তুলার আঁশ, প্রাণীর লোম, পাখির পালকের আঁশ, ঘাস, খড় প্রভৃতি সাধারণ অ্যালার্জির কারণ। এছাড়া কিছু খাবার যেমন চিংড়ি ও ইলিশ মাছ বা সুগন্ধি ও প্রসাধনী ব্যবহারের ফলে অ্যালার্জির সমস্যা বাড়তে পারে। এসব কারণে নাক, চোখ ও গলায় প্রদাহ এবং চুলকানি হতে পারে, যা খুবই অস্বস্তিকর।

অ্যালার্জি এড়ানোর উপায়:

  • যেসব বস্তুর সংস্পর্শে অ্যালার্জি হয়, সেগুলো থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকা

  • বাড়িতে পোষা প্রাণী ও কার্পেট ব্যবহার সীমিত রাখা, কারণ এগুলোতে ধুলা ও লোম জমে থাকে

  • ঘর শুষ্ক রাখা এবং বালিশ, গদি ইত্যাদিতে অ্যালার্জি প্রতিরোধী কভার ব্যবহার করা

  • শিশুদের ধূমপানের ধোঁয়া থেকে দূরে রাখা, কারণ তা অ্যালার্জি বাড়ায়

চিকিৎসা এবং প্রতিকার:

অ্যালার্জির রোগ কখনো পুরোপুরি সারে না, তবে চিকিৎসার মাধ্যমে রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। রোগী নিজেই বুঝতে চেষ্টা করবেন কোন জিনিস তার অ্যালার্জি সৃষ্টি করে এবং তা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করবেন। জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের পরামর্শে বিভিন্ন ওষুধ যেমন অ্যান্টিহিস্টামিন, নাকের ডিকনজেস্ট্যান্ট, লিউকোট্রিন রিসেপ্টর ব্লকার ও নাকের স্প্রে ব্যবহার করা যেতে পারে।

অ্যান্টিহিস্টামিন মুখ বা নাক দিয়ে নেওয়া যায় এবং সমস্যা বেশি হয় এমন স্থানে যাওয়ার আগে নেওয়া যেতে পারে। তবে এসব ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যেমন তন্দ্রাচ্ছন্নতা হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে স্টেরয়েড স্প্রে, মন্টেলুকাস্ট বা অ্যালার্জেন ইমিউনোথেরাপিও প্রয়োগ করা হয়।

নাকের স্বাস্থ্য রক্ষায় নিয়মিত লবণাক্ত পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার (ওয়াশ) করা একটি কার্যকর উপায়। যদি নাকের অ্যালার্জির সঠিক চিকিৎসা না করা হয় বা অবহেলা করা হয়, তাহলে রোগীর প্রায় ২৫ শতাংশই অ্যাজমায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকতে পারে। তাই অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ জরুরি।


উল্লেখ্য:
এই তথ্য দিয়েছেন ডা. এম আলমগীর চৌধুরী, অধ্যাপক, নাক কান গলা বিভাগ, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ, ঢাকা।

  • Health tips
  • এলার্জি থেকে বাঁচার উপায়
  • এলার্জি থেকে মুক্তির উপায়
  • error: Content is protected !!