শিরোনাম

গাজা যুদ্ধবিরতিতে হামাসের শর্ত “অগ্রহণযোগ্য”: নেতানিয়াহু, আলোচনায় প্রতিনিধিদল পাঠাল ইসরাইল

: আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২০২৫-০৭-০৬

গাজা যুদ্ধ থামাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তাতে হামাস পরিবর্তন আনার যে দাবি জানিয়েছে, সেটিকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, হামাসের এসব শর্ত কোনোভাবেই মানা হবে না। তবে এ মন্তব্যের মধ্যেও যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত আলোচনা করতে তেল আবিব একটি প্রতিনিধি দল কাতার পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছেন নেতানিয়াহু।

এর আগে, গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য ট্রাম্পের কাছ থেকে “ব্যক্তিগত গ্যারান্টি” চায় হামাস। হামাসের এমন ইতিবাচক সাড়া পেয়ে গাজার সাধারণ ফিলিস্তিনিরা আশাবাদী হয়ে উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, এবার সত্যিই যুদ্ধবিরতির পথে অগ্রসর হচ্ছেন ট্রাম্প।

গাজার এক বাসিন্দা বলেন, “শুনেছি ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা করছেন। আশা করছি দ্রুতই ভালো কিছু ঘটবে। এই অন্যায়, অমানবিক গণহত্যায় আমরা ভীষণ ক্লান্ত।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা স্থায়ীভাবে এই যুদ্ধের শেষ চাই। সাময়িক সমাধান নয়। তারা (ইসরাইল) যেন জিম্মিদের ফিরিয়ে নেয়, আমাদের বন্দিদের ফেরত দেয় এবং গাজা পুনর্গঠনের সুযোগ দেয়—আমাদের এটাই প্রত্যাশা।”

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি আলোচনার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে কাতারে একটি প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে ইসরাইল। নেতানিয়াহু নিজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে হামাস ট্রাম্পের প্রস্তাবে যে পরিবর্তনের দাবি তুলেছে, সেটিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।

এই আলোচনার পটভূমিতেই শনিবার রাতেও গাজার বিভিন্ন স্থানে ইসরাইলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত ছিল। খান ইউনুস, নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরগাজা সিটি-তে একের পর এক বিমান ও স্থল হামলা চালানো হয়, যাতে প্রাণ হারান অন্তত ৫০ জনেরও বেশি।

এছাড়া গেল ২৪ ঘণ্টায় গাজায় ইসরাইলি হামলায় আরও ৭৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় প্রতি তিনজনের একজন ফিলিস্তিনি না খেয়ে দিন পার করছেন। সংস্থাটি আরও জানায়, খাদ্য সহায়তা পৌঁছালেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য। তাছাড়া ত্রাণ নিতে গিয়ে ইসরাইলি হামলায় বহু ফিলিস্তিনির হতাহতের ঘটনাও নিন্দা জানিয়েছে সংস্থাটি।

error: Content is protected !!