ইরানের একটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সহিংসতার আশঙ্কা করছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এ ঘটনায় ‘ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রতিশোধের আরেকটি চক্র’ শুরু হতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
রবিবার (২২ জুন) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি অধিবেশনে গুতেরেস বলেন, “আমি মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনার নিন্দা জানাই। এ অঞ্চলের মানুষ আর কোনো রকম ধ্বংসযজ্ঞ সহ্য করার মতো অবস্থায় নেই। এখন আমরা এমন এক পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ সংঘাতকে আরও ঘনীভূত করে তুলতে পারে।”
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি একই অধিবেশনে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল ও উদ্বেগজনক। আমাদের এখনো শান্তিপূর্ণ সংলাপ ও কূটনৈতিক আলোচনায় ফেরার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এই সুযোগ হারালে সহিংসতা ব্যাপক রূপ নিতে পারে এবং বিশ্বব্যাপী পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ব্যবস্থাও হুমকিতে পড়তে পারে।”
তিনি জানান, ইরানের ফোর্দো পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলায় বড় ধরনের গর্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে—যুক্তরাষ্ট্র এমন ধরনের বোমা ব্যবহার করেছে, যা মাটির গভীরে আঘাত হানতে সক্ষম। তবে, ফোর্দোর অভ্যন্তরে কতটা ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলেও তিনি জানান।
গ্রোসি আরও বলেন, “পরমাণু স্থাপনায় সশস্ত্র হামলা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে, যা কেবল আক্রান্ত দেশ নয়, আশপাশের অঞ্চলকেও মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।”
রবিবারের বৈঠকে রাশিয়া, চীন ও পাকিস্তান নিরাপত্তা পরিষদে একটি খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। এতে ইরানে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি দাবি করা হয় এবং শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার কড়া নিন্দা জানানো হয়।
তবে নিরাপত্তা পরিষদে ব্যাপক মতবিভেদ দেখা গেছে। ফ্রান্স, ব্রিটেনসহ কয়েকটি দেশ ইরানকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানালেও, ইসরাইলের জাতিসংঘ দূত ড্যানি ড্যানন এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর মতে, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে নিন্দা নয়, বরং বিশ্বকে আরও নিরাপদ করার জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত।”
অন্যদিকে, জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে বলেন, “মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অজুহাতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে ওয়াশিংটন একটি বিপজ্জনক যুদ্ধ শুরু করেছে, যা অবৈধ শক্তি প্রয়োগের শামিল।”
