সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র উৎমাছড়া থেকে ভ্রমণে আসা পর্যটকদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কওমি মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে ‘বিচ্ছিন্ন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত রোববার (৮ জুন) বিকেলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উত্তর রনিখাই ইউনিয়নের চরারবাজার এলাকার উৎমাছড়া পর্যটনকেন্দ্রে। ঘটনার পরদিন, সোমবার (৯ জুন) ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে শুরু হয় আলোচনা।
ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় একটি মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পর্যটকদের উদ্দেশে বলেন, “এই এলাকাকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যাবে না। আলেম-ওলামা ও স্থানীয়দের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরিবেশ রক্ষায় পর্যটকদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।” পর্যটকদের উদ্দেশে আরও বলা হয়, “অনেকে এখানে এসে মদ্যপান ও অশ্লীল কার্যকলাপ করেন, এতে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তাই দয়া করে আপনারা এখান থেকে চলে যান এবং ভবিষ্যতে আর আসবেন না।”
ভিডিওতে যুব জমিয়ত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি মুফতি রুহুল আমিন সিরাজীকেও বক্তব্য দিতে দেখা যায়। তিনি বলেন, “সম্মানের সাথে অনুরোধ করছি—আগামীতে কেউ উৎমাছড়ায় ঘুরতে আসবেন না। পরিবেশ রক্ষায় এলাকাবাসী এটি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে বন্ধ ঘোষণা করেছে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুফতি রুহুল আমিন সিরাজী বলেন, “পর্যটনের নামে অনেকেই এখানে এসে মদ্যপান ও অশ্লীল কাজ করেন, যা আমাদের সমাজ ও যুব সমাজের জন্য হুমকি। এজন্য ঈদের আগের দিন স্থানীয় আলেম, মুরব্বি ও যুব সমাজ মিলে এক বৈঠকে এই স্থানটিকে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সে অনুযায়ী আমরা পর্যটকদের বিনয়ের সাথে বুঝিয়ে বলেছি।”
ঘটনার পরপরই বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য দেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ আজিজুন্নাহার। তিনি বলেন, “এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। পর্যটকদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। অভিযুক্তদের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা অনুতপ্ত। স্থানীয়দের সঙ্গে বসে এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
