সাত বছর পর পিয়ংইয়ংয়ে শি জিনপিং, নতুন ভূরাজনৈতিক বার্তার আভাস

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: ২০২৬-০৬-০৮

দীর্ঘ সাত বছর পর উত্তর কোরিয়া সফরে গেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের আমন্ত্রণে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে সোমবার দেশটির রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে পৌঁছান তিনি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় এ সফর বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

স্থানীয় সময় দুপুরে এয়ার চায়নার বিশেষ বিমানে করে শি জিনপিং ও তার স্ত্রী পেং লিউয়ান পিয়ংইয়ংয়ে পৌঁছালে বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানান কিম জং উন ও তার স্ত্রী রি সল জু। দুই দেশের জাতীয় পতাকা, ফুল ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজনটি ছিল বর্ণাঢ্য।

২০১৯ সালের পর এই প্রথম উত্তর কোরিয়া সফর করছেন শি জিনপিং। একই সঙ্গে ২০২৬ সালে এটি তার প্রথম বিদেশ সফর, যা কূটনৈতিক অঙ্গনে বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে। সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং কমিউনিস্ট পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা কাই কি।

বিশ্লেষকদের মতে, বছরের প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য নির্বাচন একটি দেশের কৌশলগত অগ্রাধিকারকে তুলে ধরে। সে বিবেচনায় উত্তর কোরিয়াকে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে বেইজিং একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বেইজিংয়ে স্বাগত জানানোর পর এই সফর আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন ভারসাম্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

চলতি বছর চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সহায়তা চুক্তি’র ৬৫তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। এই চুক্তি এখনো চীনের একমাত্র আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা চুক্তি হিসেবে বিদ্যমান, যা দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের প্রতিফলন।

পশ্চিমা কূটনৈতিক সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। পিয়ংইয়ং রাশিয়ার সহায়তায় প্রায় ১১ হাজার সেনা এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গোলাবারুদ সরবরাহ করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিনিময়ে দেশটি জ্বালানি, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সুবিধা পেয়েছে।

এ অবস্থায় অনেক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতার মধ্যে চীন তার ঐতিহ্যগত প্রভাব বজায় রাখতে সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নিচ্ছে। পাশাপাশি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কও সম্প্রসারিত হচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে চীন-উত্তর কোরিয়া বাণিজ্য আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

দুই দিনের সফরে শি জিনপিং ও কিম জং উনের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, কোরীয় উপদ্বীপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক কৌশলগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ নীতিগত অবস্থান নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর কেবল দুই দেশের বন্ধুত্বের প্রতীক নয়; বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন বার্তা বহন করছে।

error: Content is protected !!