গরমে স্বস্তি পেতে অনেকেই ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করেন। তবে শুধু গরম থেকে আরামই নয়, ঠান্ডা পানির গোসলে রয়েছে নানা স্বাস্থ্যগত উপকারিতা। ব্যস্ত দিনের ক্লান্তি দূর করে মনকে প্রশান্ত করে তোলে এই অভ্যাস। একই সঙ্গে শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রম উন্নত হয় এবং ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। সর্বোচ্চ উপকার পেতে কেউ কেউ বরফ মেশানো পানিতেও গোসল করে থাকেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া ঠান্ডা পানির গোসলের বিভিন্ন উপকারিতার কথা জানিয়েছে।
অনেকেরই অজানা, অতিরিক্ত গরম পুরুষের শুক্রাণুর উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে। সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে বিশেষ সময়ে ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করা উপকারী হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঠান্ডা পানি শরীরে লাগার সঙ্গে সঙ্গে রক্তনালিগুলো সাড়া দেয়। এতে রক্তপ্রবাহ সক্রিয় হয় এবং শরীরের বিভিন্ন টিস্যুতে অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছাতে সহায়তা করে। ফলে রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হয়।
ঠান্ডা পানিতে গোসল শরীরের বিপাকীয় হার বাড়ায়, যার ফলে দেহের তাপমাত্রা সামঞ্জস্য রাখতে শ্বেত রক্তকণিকার উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। এতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়।
নিয়মিত ঠান্ডা পানিতে গোসল ক্রনিক ব্যথা উপশমে সহায়ক। এটি চুল ও ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে, কিডনির কার্যক্ষমতা বজায় রাখে এবং শরীরের ফোলাভাব কমায়। পাশাপাশি স্নায়ুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষাতেও ভূমিকা রাখে।
শারীরিক বা মানসিক ক্লান্তি দূর করতে ঠান্ডা পানির গোসল কার্যকর। অনেক সময় ঘুম না এলে ঘুমানোর আগেও ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে আরাম পাওয়া যায়।
ঠান্ডা পরিবেশে শরীর নিজেকে উষ্ণ রাখতে বেশি শক্তি ব্যয় করে। ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসলের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া ঘটে। এতে দেহের বিপাকীয় হার বাড়ে এবং কার্বোহাইড্রেট ও চর্বি দ্রুত পুড়তে শুরু করে।
তবে যাদের ঠান্ডাজনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করার আগে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই উত্তম।
