রিকশা ফিরিয়ে দাও, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করো’—এমন স্লোগানে দিনভর উত্তাল ছিল সিলেট নগরী। অবশেষে চার দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে সড়ক ছেড়েছেন ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকরা। আগামী রবিবার (২ নভেম্বর) পর্যন্ত দাবি না মানা হলে পরিবারসহ প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এই ঘোষণা দিয়ে চৌহাট্টা-জিন্দাবাজার সড়ক থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা। ফলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয় ঐ সড়কে।
এর আগে, ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের ওপর প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আটক যানবাহন ফেরত দেওয়া এবং বিচ্ছিন্ন চার্জিং গ্যারেজে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনসহ ১১ দফা দাবি নিয়ে রাজপথে নামে হাজারো শ্রমিক। হাতে লাল কাপড়, মুখে ক্ষোভ—এই স্লোগানে দিনভর রাজপথ দখল করে রাখেন তারা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এই আন্দোলনে অচল হয়ে পড়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক, ভোগান্তিতে পড়ে হাজারো সাধারণ মানুষ।
ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকদের বিক্ষোভ ও অবরোধ ঘিরে সতর্ক অবস্থানে ছিল সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা। নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে চৌহাট্টা এলাকায় মোতায়েন করা হয় সেনা ও বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য। তবে আন্দোলন চলাকালীন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।
শ্রমিকদের দাবি, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিম্নআয়ের মানুষের জীবিকার একমাত্র ভরসা। অথচ প্রশাসনের আকস্মিক সিদ্ধান্তে প্রায় ৩০ হাজার পরিবার এখন অনিশ্চয়তার মুখে। তারা অভিযোগ করেন, বিকল্প কর্মসংস্থানের কোনো উদ্যোগ না নিয়ে জীবিকার পথ বন্ধ করে দেওয়া অমানবিক সিদ্ধান্ত। আন্দোলনকারীরা বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা পরিবেশবান্ধব এবং নগরবাসীর জন্য সাশ্রয়ী যাতায়াতের মাধ্যম। তাই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আটক যান ফেরত ও লাইসেন্স ব্যবস্থা চালুর দাবিতেই তারা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন।
তাদের ১১ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—
১. ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার,
২. আটক রিকশা ফেরত দেওয়া,
৩. চার্জিং পয়েন্ট বা গ্যারেজে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন,
৪. লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা চালু করা,
৫. শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধ করা,
৬. বিকল্প কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা প্রদান।
শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে।
অন্যদিকে, পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই নগরীর সড়ক দখল করে আন্দোলনের ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও আন্দোলনকারীদের দাবি, জরুরি সেবা যেমন অ্যাম্বুলেন্স ও রোগীবাহী যানবাহনের চলাচলে তারা রাস্তা দিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে সিলেট মহানগরীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধে অভিযান শুরু করে পুলিশ। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরীর উদ্যোগে পরিচালিত ওই অভিযানে বহু রিকশা জব্দ করা হয় এবং একাধিক চার্জিং গ্যারেজের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

ছবি সংগৃহীত
