রমজানে কিডনি রোগীদের জন্য ইফতারের নিরাপদ খাদ্য ও সতর্কতা

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: ২০২৬-০৩-১২
ছবি: সংগৃহীত

রমজান মাসে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ইফতারে কী খাওয়া হচ্ছে—তা কিডনি রোগীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভুল খাবার নির্বাচন করলে রক্তে পটাশিয়াম বা সোডিয়ামের মাত্রা বেড়ে গিয়ে কিডনির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। তাই রোজা রাখতে চাইলে কিডনি রোগীদের ইফতারের খাবার বেছে নিতে হবে সতর্কতার সঙ্গে। শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখা এবং লবণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখাই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ইফতারে যেসব খাবার রাখা যেতে পারে

সীমিত খেজুর : খেজুরে পটাশিয়াম থাকে, তাই ইফতারে ১ থেকে ২টির বেশি না খাওয়াই ভালো।

নিরাপদ ফল ও সবজি : শসা, আপেল, নাশপাতি, পেঁপে, লাউ বা ক্যাপসিকাম তুলনামূলকভাবে কিডনির জন্য উপকারী ও নিরাপদ।

ঘরোয়া শরবত : অতিরিক্ত চিনি ছাড়া লেবুর পানি বা হালকা ঘরোয়া শরবত পান করা যেতে পারে।

সহজপাচ্য প্রোটিন : চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ, অল্প পরিমাণ গ্রিল করা মুরগি বা মাছ খাওয়া যেতে পারে।

হালকা খাবার : কম লবণ দিয়ে মুড়ি, দই-মুড়ি বা চিঁড়া খাওয়া ভালো। এ ছাড়া পাতলা সবজির স্যুপও শরীরের জন্য আরামদায়ক হতে পারে।

যেসব খাবার এড়িয়ে চলা উচিত

অতিরিক্ত লবণ ও ভাজাপোড়া : বাজারের ইফতারি, চানাচুর, নোনতা বিস্কুট কিংবা প্রক্রিয়াজাত খাবার কিডনি রোগীদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

উচ্চ পটাশিয়ামযুক্ত ফল : কলা, কমলা, মাল্টা, আলু, টমেটো, কাঁঠাল এবং বেশি পরিমাণ ডাবের পানি এড়িয়ে চলা ভালো।

মিষ্টি পানীয় : কোল্ড ড্রিংকস বা অতিরিক্ত চিনি দেওয়া শরবত কিডনির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অতিরিক্ত দুগ্ধজাত খাবার : বেশি দুধ বা পনির খেলে ফসফরাসের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা কিডনি ও হাড়ের সমস্যাকে বাড়াতে পারে।

বিশেষ পরামর্শ

ইফতারের সময় একবারে বেশি পানি না খেয়ে বরং ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত অল্প অল্প করে পানি পান করা ভালো। আর যাদের ডায়ালাইসিস চলছে বা কিডনির জটিল সমস্যা রয়েছে, তারা রোজা রাখার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে খাদ্যতালিকা নির্ধারণ করবেন।

error: Content is protected !!