সরকার পুলিশের ইউনিফর্মে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুলিশের শার্ট আগের মতো নেভি ব্লু থাকলেও প্যান্টে যুক্ত করা হচ্ছে খাকি রং।
সোমবার (৪ মে) দুপুরে সচিবালয়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির প্রথম সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
পুলিশের ইউনিফর্ম পরিবর্তন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান পোশাক নিয়ে মাঠপর্যায়ের সদস্যদের মধ্যে সন্তুষ্টি নেই এবং সেটি ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্যও হয়নি। এ কারণে পুলিশ বাহিনীর প্রস্তাবের ভিত্তিতে নতুনভাবে ইউনিফর্মের নকশা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি জানান, ঐতিহ্য ও ব্যবহারিক দিক বিবেচনায় রেখে শার্টের বর্তমান রং বহাল রাখা হয়েছে, তবে প্যান্ট পরিবর্তন করে খাকি করা হয়েছে।
নতুন ইউনিফর্ম বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগবে বলেও জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে কাপড় প্রস্তুত, পোশাক তৈরি এবং সরবরাহ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় প্রয়োজন হবে।
এর আগে গত মাসে পুলিশ প্রশাসন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ইউনিফর্মের পাঁচটি ভিন্ন রঙের প্রস্তাব উপস্থাপন করে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে ছিল খাকি শার্ট-নেভি ব্লু প্যান্ট, সম্পূর্ণ খাকি, আগের নেভি ব্লু সেট, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনুমোদিত আয়রন রং এবং আকাশি শার্ট-নেভি ব্লু প্যান্ট। এসব বিকল্প থেকে সরকার শেষ পর্যন্ত নেভি ব্লু শার্ট ও খাকি প্যান্টের সমন্বয়টি চূড়ান্ত করে।
এদিকে, একজন সাংবাদিককে বিদেশে যেতে বাধা দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিষয়টি তার জানা নেই এবং তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।
পুলিশ প্রশাসনে সাম্প্রতিক বদলি ও বাধ্যতামূলক অবসর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব সিদ্ধান্ত কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়; বরং নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ। নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা এবং অবসর—সবই আইন অনুযায়ী সম্পন্ন হচ্ছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অবিচার না ঘটে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জামিনে মুক্ত হওয়া অপরাধীদের বিষয়ে তিনি বলেন, জামিন আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়। তবে এসব ব্যক্তিরা যাতে পুনরায় অপরাধে জড়াতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যেকোনো অপরাধের ক্ষেত্রে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ১ মে থেকে সারা দেশে মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিশেষ যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। এই অভিযানে পুলিশ, র্যাব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বিশেষ করে মাদক ব্যবসার বড় সিন্ডিকেট ও সীমান্তপথে চোরাচালানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াই এই অভিযানের প্রধান লক্ষ্য। দেশের মাদক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।