শিরোনাম

এলপিজি বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে সরকারি উদ্যোগ, জিটুজি ভিত্তিতে আমদানির পরিকল্পনা

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: ২০২৬-০১-১৫

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগে এলপিজি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এ লক্ষ্যে গত ১০ জানুয়ারি সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির অনুমতি চেয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি।

জ্বালানি বিভাগ ও বিপিসি সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশের এলপিজি বাজার প্রায় সম্পূর্ণভাবে বেসরকারি খাতনির্ভর। ফলে খুচরা পর্যায়ে সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সরকারের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই। এরই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘদিন ধরে বাজারে ঘাটতি ও দফায় দফায় দাম বাড়ার অভিযোগ উঠে আসছে।

এই পরিস্থিতিতে সরকারি পর্যায়ে এলপিজি আমদানির মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধ করাই বিপিসির মূল লক্ষ্য। বিপিসির চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকটের পাশাপাশি অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বেসরকারি অপারেটরদের অনেকে আর্থিক ও কারিগরি জটিলতার কারণে নিয়মিত আমদানি করতে পারছেন না, যা কিছু ক্ষেত্রে কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, সরকারিভাবে এলপিজি আমদানি করা হলে বেসরকারি অপারেটরদের বিদ্যমান নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেই দ্রুত বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে করে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। তবে বিপিসির নিজস্ব টার্মিনাল বা অবকাঠামো না থাকায় বেসরকারি খাতের টার্মিনাল ও খালাস সুবিধা ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জিটুজি ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির সম্ভাবনা যাচাই করছে। প্রাথমিকভাবে সরকার শুধু আমদানির দায়িত্ব নেবে, আর সংরক্ষণ ও বোতলজাতকরণসহ অন্যান্য কার্যক্রম বেসরকারি খাতের মাধ্যমেই পরিচালিত হবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত এলপি গ্যাস লিমিটেড ও বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে এলপিজির বার্ষিক চাহিদা প্রায় ১৭ লাখ টন। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবহৃত হয় রান্নার কাজে এবং অবশিষ্ট ২০ শতাংশ শিল্পকারখানা ও যানবাহনে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতি বছরই এলপিজির চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত এলপি গ্যাস লিমিটেডের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালে দেশে এলপিজির বার্ষিক চাহিদা বেড়ে প্রায় ৩০ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে। অথচ সরকারি উৎস থেকে সরবরাহ সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টনের বেশি নয়, যা মোট চাহিদার তুলনায় নগণ্য।

এদিকে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, বিগত সময়ে এলপিজি খাত পুরোপুরি বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত হওয়ায় ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি মনে করেন, বাজারে ভারসাম্য আনতে সরকারকে ভোক্তাবান্ধব সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং প্রয়োজনে সরাসরি আমদানির মাধ্যমে সরবরাহ বাড়াতে হবে।

error: Content is protected !!