প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি ড্রেস: ২ লাখ শিক্ষার্থী পাচ্ছে সরকারি সহায়তা

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: ২০২৬-০৪-০৮
ছবি: সংগৃহীত

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বড় উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। চলতি অর্থবছরেই দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষাকে দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের প্রধান বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করছে। একটি মানসম্মত, জীবনঘনিষ্ঠ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষাখাতে বরাদ্দ ধাপে ধাপে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ৪৩টি অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের এ কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে সব উপজেলায় স্কুল ফিডিং বা মিড-ডে মিল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সংযোগ প্রদান এবং শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের জন্য ‘এডু-আইডি’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এ ছাড়া পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ এবং প্রতিটি জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে ২ হাজার ৩৩৬টি কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও ৮ হাজার ২৩২টি মাদ্রাসায় বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সংযোগ স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি কোর্স সংযোজনের মাধ্যমে মাদ্রাসা শিক্ষাকে আরও যুগোপযোগী করা হবে।

এছাড়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের মাধ্যমে আগামী ছয় মাসে শিক্ষার্থীদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট (ফ্লাটার), পাইথন প্রোগ্রামিং এবং এআইভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

error: Content is protected !!