অবশেষে ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃষ্টিবিঘ্নিত দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচেও টাইগাররা ডিএলএস পদ্ধতিতে ৮৬ রানের বড় জয় পেয়েছিল। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে অপ্রতিরোধ্য লিড নিয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
এই জয়ের মাধ্যমে টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে এখন কেবল ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই ওয়ানডে সিরিজ জয় বাকি থাকলো বাংলাদেশের। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়। এর আগে ২০২১ সালে ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে জিতেছিল টাইগাররা।
ইনিংসের প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই তাসকিনের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হন ম্যাথু শর্ট। পরের ওভারে মুস্তাফিজ টানা দুই বলে ফেরান কুপার কনোলি ও ম্যাট রেনশোকে। দুজনই লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন এবং কেউই রানের খাতা খুলতে পারেননি।
মাত্র ৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া ওয়ানডে ইতিহাসে প্রথমবার এমন বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।

জশ ইংলিশ (৩৪) ও অ্যালেক্স ক্যারি (১৩) কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও মুস্তাফিজ ক্যারিকে ফেরান। পরে তানভীর ইসলামের স্পিনে আউট হন ইংলিশ ও ক্যামেরুন গ্রিন (২৫)।
তবে মার্নাস লাবুশানে ও জাভিয়ের বার্টলেট সপ্তম উইকেটে ১০৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে লড়াইয়ে ফেরান। বার্টলেট ৫২ রান করে আউট হন। একই ওভারে এডাম জাম্পাকেও ফেরান তাসকিন। বৃষ্টির কারণে এরপর আর খেলা হয়নি। ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রানেই থামে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস।
বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশের সামনে ডিএলএস পদ্ধতিতে ৪১ ওভারে ১৯২ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়। শুরুতে কিছুটা চাপে পড়লেও সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত তৃতীয় উইকেটে ৮৬ রানের জুটি গড়ে দলকে স্থিতি এনে দেন। দুজনই ৪২ রান করে আউট হন।
লিটন দাস (২১) ও মোসাদ্দেক হোসেন (১৫) বড় ইনিংস খেলতে না পারায় ১৪৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে সেখান থেকে আর ভুল করেননি তাওহীদ হৃদয় ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ষষ্ঠ উইকেটে তাদের অবিচ্ছিন্ন ৫১ রানের জুটিতে ৩৬ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত হয়।
হৃদয় ৫৫ বলে ৪০ রানে অপরাজিত থাকেন। মিরাজ ২২ বলে ২২ রান করে ছক্কা মেরে জয় নিশ্চিত করেন।
অস্ট্রেলিয়া: ১৮৭/৮ (৪২ ওভার) – জাভিয়ের বার্টলেট ৫২, মার্নাস লাবুশানে ৫৫*; মুস্তাফিজুর রহমান ৩/২৭, তাসকিন আহমেদ ৩/৩৩, তানভীর ইসলাম ২/৪৫
বাংলাদেশ: ১৯৫/৫ (৩৫ ওভার) – সৌম্য সরকার ৪২, নাজমুল হোসেন শান্ত ৪২, তাওহীদ হৃদয় ৪০*; ক্যামেরুন গ্রিন ১/৯
ফল: বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী (ডিএলএস)
ম্যাচ সেরা: মুস্তাফিজুর রহমান
সিরিজ অবস্থা: বাংলাদেশ ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে।
