জ্বর হলে গোসল করা যাবে?

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: ২০২৬-০৭-০৫
ছবি : সংগৃহীত

জ্বর হলে গোসল করা উচিত কি না—এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের ধারণা প্রচলিত রয়েছে। কেউ মনে করেন, জ্বরের সময় গোসল করলে অসুস্থতা আরও বেড়ে যেতে পারে। আবার অনেকে বিশ্বাস করেন, ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে দ্রুত জ্বর কমে। তবে চিকিৎসকদের মতে, এই দুটি ধারণার কোনোটিই পুরোপুরি সঠিক নয়।

ভারতের ফরিদাবাদের অমৃতা হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের প্রধান ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. সঞ্জয় রায়নার মতে, জ্বরের সময় অধিকাংশ মানুষের জন্য কুসুম গরম পানিতে গোসল করা নিরাপদ। যদিও এটি জ্বর সারিয়ে তোলে না, তবে শরীরকে সতেজ রাখতে, ঘাম পরিষ্কার করতে এবং স্বস্তি অনুভব করতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে শরীর স্বাভাবিকভাবে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পায়।

ঠান্ডা পানিতে গোসল কেন নয়?

অনেকেই মনে করেন বরফ-ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করলে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমে যাবে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি শরীরে কাঁপুনি সৃষ্টি করতে পারে। এতে পেশি বেশি তাপ উৎপন্ন করে, ফলে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা কমার বদলে বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি ঠান্ডা পানি রোগীর অস্বস্তিও বাড়িয়ে দেয়।

অতিরিক্ত গরম পানিও ঝুঁকিপূর্ণ

শুধু ঠান্ডা পানিই নয়, খুব গরম পানিতে গোসল করাও জ্বরের সময় উপযুক্ত নয়। কারণ এতে অতিরিক্ত ঘামের মাধ্যমে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে, মাথা ঘোরার ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং শরীরের তাপমাত্রাও আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ, এ সময় কুসুম গরম পানি ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো।

কোন পরিস্থিতিতে গোসল এড়িয়ে চলবেন?

সব ক্ষেত্রে জ্বর নিয়ে গোসল করা নিরাপদ নয়। রোগী যদি অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে পড়েন, মাথা ঘোরে, অজ্ঞান হওয়ার মতো অনুভূতি হয়, বিভ্রান্ত বা তন্দ্রাচ্ছন্ন থাকেন, নিজে দাঁড়িয়ে থাকতে না পারেন অথবা উচ্চ জ্বরের সঙ্গে গুরুতর অসুস্থতা থাকে, তাহলে গোসলের পরিবর্তে বিশ্রাম নেওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

দ্রুত সুস্থ হতে যা করবেন

চিকিৎসকদের মতে, জ্বর নিজে কোনো রোগ নয়; এটি সাধারণত শরীরে সংক্রমণ বা অন্য সমস্যার একটি লক্ষণ। তাই সুস্থ হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার পান করা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া, পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়া এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা জরুরি।

কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন?

জ্বর যদি টানা দুই থেকে তিন দিনের বেশি থাকে, শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, তীব্র মাথাব্যথা বা ঘাড় শক্ত হয়ে যায়, বারবার বমি হয় কিংবা রোগী বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এছাড়া শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে জ্বরের সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

চিকিৎসকদের মতে, জ্বর হলে গোসল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়। বরং শারীরিক অবস্থা অনুকূলে থাকলে কুসুম গরম পানিতে গোসল করলে পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকে এবং রোগী স্বস্তি অনুভব করেন, যা সুস্থতার পথকে আরও সহজ করতে পারে।

error: Content is protected !!