শাহপরান (রহ.) মাজার পরিদর্শনে ডিসি সারওয়ার আলম, দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ওপর জোর

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: ২০২৬-০৬-১৯
ছবি : সংগৃহীত

সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম হযরত শাহপরান (রহ.) মাজার পরিদর্শন করে মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি মাজার এলাকায় মাদকসেবন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

শুক্রবার (১৯ জুন) জুমার নামাজের আগে শাহপরান (রহ.) মাজারে গিয়ে মসজিদে উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক।

তিনি বলেন, ওলি-আউলিয়াদের স্মৃতিবিজড়িত এসব ধর্মীয় স্থানের প্রতি মানুষের গভীর আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। তাই মাজারগুলোকে আরও পরিকল্পিত, পরিচ্ছন্ন ও দর্শনার্থীবান্ধব পরিবেশে গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে মেডিকেল সেন্টার, নারীদের নামাজের ব্যবস্থা এবং উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরির প্রস্তাব দেন তিনি।

দান ব্যবস্থাপনার বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, মানুষ তখনই স্বতঃস্ফূর্তভাবে দান করেন, যখন তারা নিশ্চিত হন যে সেই অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় হচ্ছে। তাই দানের অর্থ সংগ্রহ ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন অর্থ আত্মসাৎ করতে না পারে, সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মাজারকেন্দ্রিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জনসম্মুখে স্পষ্ট ও জবাবদিহিমূলক হওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

মাজার এলাকায় মাদকসেবন প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, বিভিন্ন সময়ে কিছু মাজারে মদ ও গাঁজার আসর বসার অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব কর্মকাণ্ড আইনবিরোধী এবং ধর্মীয় স্থানের মর্যাদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ ধরনের অপরাধ দমনে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।

তিনি জানান, হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারে দান সংগ্রহের ক্ষেত্রে হাতে হাতে অর্থ গ্রহণের পরিবর্তে দানবাক্স ব্যবহারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

এর আগে গত ১২ জুন হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দান সংগ্রহের ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়।

পরে ১৮ জুন বিকেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল বাছিত মোল্লার নেতৃত্বে শাহজালাল (রহ.) মাজারের তিনটি দানের ডেগ সিলগালা করা হয়। একই সঙ্গে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে একটি বড় কেন্দ্রীয় দানবাক্সসহ কয়েকটি দানবাক্স স্থাপন করা হয়। এসব দানবাক্সের নিরাপত্তায় আনসার সদস্যও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের দাবি, দান সংগ্রহ প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও স্বচ্ছ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ভক্তদের সব ধরনের অনুদান নির্ধারিত দানবাক্সে জমা হবে এবং হাতে হাতে অর্থ গ্রহণের সুযোগ থাকবে না।

উল্লেখ্য, হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজার সিলেটের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিদিন দেশ-বিদেশের অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী এসব মাজারে এসে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, গবাদিপশু, খাদ্যসামগ্রীসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী দান করেন। দীর্ঘদিন ধরে এসব দানের অর্থের পরিমাণ ও ব্যয়ের হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ না হওয়ায় নানা প্রশ্ন ও আলোচনা ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

error: Content is protected !!