ছবি: সংগৃহীত
মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা পূরণে পরিশোধিত সাদা চিনির পরিবর্তে অনেকেই এখন খেজুর বা গুড় বেছে নিচ্ছেন। প্রাকৃতিক উৎস থেকে পাওয়া এ দুটি খাবার চিনির তুলনায় কিছু পুষ্টিগুণ বেশি দিলেও ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কোনটি ভালো—এ নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খেজুর ও গুড়—দুটিই প্রাকৃতিক মিষ্টির উৎস হলেও ওজন কমানোর ক্ষেত্রে খেজুর তুলনামূলক বেশি উপকারী। এর প্রধান কারণ হলো খেজুরে থাকা খাদ্যআঁশ (ফাইবার), যা দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায়।
খেজুর একটি সম্পূর্ণ ফল। এতে রয়েছে ফাইবার, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। ফাইবার হজমের গতি ধীর করে, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায় না। একই সঙ্গে এটি দীর্ঘক্ষণ তৃপ্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
গুড় আখ বা খেজুর/তালের রস থেকে তৈরি একটি কম পরিশোধিত প্রাকৃতিক মিষ্টি। এতে আয়রন, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজ উপাদান থাকলেও উৎপাদন প্রক্রিয়ায় এর ফাইবার প্রায় পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়।
ফলে গুড় দ্রুত হজম হয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলক দ্রুত বাড়াতে পারে। এতে কিছু সময় পর আবার ক্ষুধা লাগার সম্ভাবনাও বাড়ে।
খেজুরের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম থেকে মাঝারি হওয়ায় এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা তুলনামূলক স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে। অন্যদিকে, গুড়ের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশি হওয়ায় এটি দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে।
দুটিতেই ক্যালরি তুলনামূলক বেশি থাকলেও খেজুর সাধারণত নির্দিষ্ট সংখ্যায় খাওয়া হয়, তাই অতিরিক্ত খাওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। বিপরীতে, গুড় চা, পায়েস বা বিভিন্ন মিষ্টি খাবারে ব্যবহৃত হওয়ায় অজান্তেই বেশি ক্যালরি গ্রহণ হয়ে যেতে পারে।
তাৎক্ষণিক শক্তির উৎস হিসেবে ব্যায়ামের আগে ১–২টি খেজুর খাওয়া উপকারী হতে পারে। এতে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা দ্রুত শক্তি জোগায় এবং ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে।
পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে প্রতিদিন ১–২টি খেজুর বা সর্বোচ্চ আধা থেকে এক চা-চামচ গুড় খাওয়া যেতে পারে। তবে পরিমাণের প্রতি সতর্ক থাকা জরুরি, কারণ অতিরিক্ত খেলে দুটিই ক্যালরি গ্রহণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
ওজন কমানোই যদি মূল লক্ষ্য হয়, তাহলে গুড়ের তুলনায় খেজুর ভালো বিকল্প। এতে থাকা ফাইবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমাতে সহায়তা করে। তবে খেজুর বা গুড়—যেটিই খাওয়া হোক না কেন, পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই স্বাস্থ্যকর অভ্যাস।
