শিরোনাম

মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক যে ১০ খাবার

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: ২০২৫-১০-১৩
ছবি সংগৃহীত

মানসিক স্বাস্থ্য আমাদের সামগ্রিক সুস্থতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমরা অনেক সময় মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা হতাশা দূর করতে নানা উপায়ে চেষ্টা করলেও, খাবারের প্রভাবকে বেশিরভাগ সময়ই উপেক্ষা করি। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন—আমাদের খাদ্যাভ্যাস সরাসরি প্রভাব ফেলে মেজাজ, চিন্তাশক্তি ও শক্তির মাত্রার ওপর। পুষ্টিকর খাবার শুধু শরীর নয়, মনকেও চাঙা রাখে, মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে এবং জীবনকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করে তোলে।

সম্প্রতি ভারতীয় পুষ্টিবিদ লবলিন কৌর জানিয়েছেন, মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কিছু নির্দিষ্ট খাবার ও খাদ্যাভ্যাস অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। নিচে দেওয়া হলো এমন ১০টি খাবার ও অভ্যাস, যা মানসিক স্বাস্থ্যে আনতে পারে ইতিবাচক পরিবর্তন—

১. ঘরে তৈরি দই
দই শরীরে ভালো ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটায়, যা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। প্রতিদিন আধা থেকে এক কাপ ঘরে তৈরি দই খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এর সঙ্গে ভাজা জিরা ও গোলমরিচ মিশিয়ে খেলে স্বাদ বাড়ে এবং হজমও সহজ হয়।

২. ওটস ও অন্যান্য হোলগ্রেইন
ওটসে থাকা বিটা-গ্লুকান রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে, ফলে শক্তি ও মেজাজ দুটোই স্থিতিশীল থাকে। সকালের নাস্তায় ওটস উপমা, ওভারনাইট ওটস বা ওটমিল খাওয়া যেতে পারে। ব্রাউন রাইস ও কুইনোয়া রাখলে পুষ্টিগুণ আরও বাড়ে।

৩. কলা
সহজলভ্য এই ফলটিতে রয়েছে ভিটামিন বি-৬, যা সেরোটোনিন উৎপাদনে সহায়তা করে—এই হরমোনই আমাদের মুড ভালো রাখে। প্রতিদিন একটি কলা ও এক মুঠো বাদাম খেলে শরীর ও মন দুটোই থাকে প্রফুল্ল।

৪. প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার
প্রোটিন মস্তিষ্কে ডোপামিন ও সেরোটোনিন তৈরিতে ভূমিকা রাখে। তাই প্রতিটি খাবারে প্রোটিন থাকা জরুরি। নিরামিষভোজীদের জন্য ডাল, ছোলা ও স্প্রাউটস ভালো বিকল্প; অন্যদিকে, ডিম বা মাছও প্রোটিনের উৎকৃষ্ট উৎস।

৫. আখরোট ও বাদাম
আখরোটে আছে উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা প্রদাহ কমায় ও মন ভালো রাখে। কাঠবাদামে থাকা ম্যাগনেশিয়াম মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে এবং ঘুমের মান বাড়ায়। প্রতিদিন এক মুঠো বাদাম খাওয়াই যথেষ্ট।

৬. ফ্ল্যাক্সসিড ও কুমড়ার বীজ
প্রতিদিন এক টেবিলচামচ ফ্ল্যাক্সসিড বা কুমড়ার বীজ খেলে শরীর পায় প্রয়োজনীয় ওমেগা-৩, জিঙ্ক ও ম্যাগনেশিয়াম। এগুলো সালাদের ওপরে ছিটিয়ে বা দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে।

৭. পাতা জাতীয় সবজি
পালং, লাল শাক, সরিষা শাকসহ পাতা জাতীয় সবজিতে থাকে ফলেট ও ম্যাগনেশিয়াম, যা স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখে। এগুলো ডাল, খিচুড়ি বা ওমলেটে মিশিয়ে খেলে পুষ্টিগুণ বাড়ে।

৮. রঙিন ফল ও সবজি
বেরি, কমলা, আমলা, বিটরুট, টমেটো—এ ধরনের রঙিন ফল ও সবজিতে পলিফেনল থাকে, যা মস্তিষ্কে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমিয়ে মন ভালো রাখে। প্রতিটি খাবারে অন্তত দুই রঙের সবজি বা ফল রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

৯. ভিটামিন ডি ও বি-১২
এই দুটি ভিটামিন শক্তি, মনোযোগ ও মেজাজ ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সকালে কিছুক্ষণ রোদে থাকা ভিটামিন ডি পাওয়ার প্রাকৃতিক উপায়। তবে ঘাটতি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যেতে পারে। নিরামিষভোজীদের জন্য ভিটামিন বি-১২ সাপ্লিমেন্টও দরকার হতে পারে।

১০. ডার্ক চকলেট
৭০ শতাংশ বা তার বেশি কোকোযুক্ত ডার্ক চকলেট মেজাজ উন্নত করে, কারণ এতে আছে ম্যাগনেশিয়াম ও পলিফেনল। তবে দিনে ১৫-২০ গ্রাম খাওয়াই যথেষ্ট, যাতে অতিরিক্ত চিনি না হয়।

পুষ্টিবিদদের মতে, “মন ভালো রাখার শুরু হয় প্লেট থেকেই।” তাই নিয়মিত ঘুম, পর্যাপ্ত পানি পান এবং পুষ্টিকর খাদ্যের সঙ্গে সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখলে মন থাকবে শান্ত, মেজাজ প্রফুল্ল থা

 

error: Content is protected !!