ছবি: সংগৃহীত
শীতকালীন রোগের প্রাদুর্ভাব রোধ এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের সব সরকারি হাসপাতালে সাত দফা নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সোমবার (৫ জানুয়ারি) অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
চিঠিতে শীতজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে—
প্রথমত, হাসপাতালের ভাঙা জানালা, দরজা কিংবা যেসব স্থানে ঠান্ডা বাতাস প্রবেশ করে সেগুলো পিডব্লিউডি, এইচইডি বা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় দ্রুত মেরামত ও সংস্কার করতে হবে, যাতে ভেতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং রোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
দ্বিতীয়ত, রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত কম্বল ও মশারি সরবরাহ করতে হবে, যাতে শীত ও তাপমাত্রার পরিবর্তনের কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি না বাড়ে।
তৃতীয়ত, শীতকালীন রোগের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় নেবুলাইজার সলিউশন, অ্যান্টিবায়োটিক, অক্সিজেন, ওরাল স্যালাইন, আইভি ফ্লুইডসহ সব ধরনের জরুরি ওষুধ পর্যাপ্ত মজুত রাখতে হবে।
চতুর্থত, শিশু ও মেডিসিন ওয়ার্ডে নিয়মিতভাবে বাধ্যতামূলক বৈকালিক রাউন্ড নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পঞ্চমত, রোগীর অভিভাবক ও পরিবারের সদস্যদের শীতকালীন রোগ, এর লক্ষণ এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে সচেতন করতে স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রদান করা যেতে পারে।
ষষ্ঠত, প্রতিদিন হাসপাতালের সার্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির প্রতিবেদন এমআইএস কন্ট্রোল রুমে পাঠাতে হবে।
সপ্তমত, হাসপাতাল প্রধানদের বিশেষ নজরদারির মাধ্যমে শীতকালীন রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ এবং রোগীদের সঠিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
এই নির্দেশনা দেশের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক, জেলা সদর ও জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
নির্দেশনায় উল্লিখিত বিষয়গুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
