তেহরানে ইসরায়েলের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, জরুরি অবস্থা জারি

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: ২০২৫-০৬-১৩

ইরানের রাজধানী তেহরানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। বৃহস্পতিবার (১২ জুন) দিবাগত রাতের শেষভাগে এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি ও আল–জাজিরা।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর এই অভিযানে রাজধানী তেহরানে অন্তত ৬ থেকে ৯টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, হামলার লক্ষ্য ছিল কিছু আবাসিক ভবনসহ বেশ কয়েকটি সামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। বিস্ফোরণের পর তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সব ধরনের ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এই হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কার্তজ জানান, “আগামী সময়ে ইসরায়েল ও এর বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সম্ভাব্য ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা থেকে এই আগাম প্রতিরোধমূলক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।”

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে বলেন, “এই অভিযানের লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা। যতদিন প্রয়োজন, ততদিন এই অভিযান চলবে।”

হামলার পর ইসরায়েলজুড়ে ‘বিশেষ জরুরি অবস্থা’ জারি করেছে নেতানিয়াহুর সরকার। দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আল–জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের উত্তর–পূর্বাঞ্চলে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তবে এ ঘটনায় এখনো হতাহতের সংখ্যা বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানা যায়নি।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র এই হামলায় জড়িত নয় বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেন, “ইসরায়েলের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা নেই। আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”

উল্লেখ্য, গত ১ অক্টোবর ২০২৪ সালে ইসরায়েলে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল ইরান। ওই রাতে ইরানি বাহিনী প্রায় ২০০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যেগুলোর বেশিরভাগই আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ওই হামলার জবাবে পরে ইসরায়েল ইরানে বিমান হামলা চালায়। তখন ইরানের বেশ কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছিল তেলআবিব, যদিও তেহরান সেই দাবি অস্বীকার করেছে।

error: Content is protected !!