শিরোনাম

সোশ্যাল মিডিয়ায় এআইয়ের ছড়ানো বিভ্রান্তি, বিশেষজ্ঞদের সতর্ক বার্তা

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: ২০২৫-০৭-২৯

জেনারেটিভ এআই দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর ও অর্ধসত্য তথ্য এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপকভাবে। কখনো লেখার মাধ্যমে, কখনো বা ভিডিও আকারে প্রতিনিয়ত প্রচার করা হচ্ছে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, দ্রুত এ সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ না নিলে এর ফলাফল হতে পারে ভয়াবহ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ঘুরলেই চোখে পড়ে নানা ধরনের ভিডিও—কখনো নদীতে ভেঙে পড়ছে বসতবাড়ি, কখনো বাস্তব কোনো দুর্ঘটনার দৃশ্য বলে মনে হয়। অথচ বাস্তবে এমন কিছুই ঘটেনি। এসব দৃশ্য আসলে জেনারেটিভ এআইয়ের মাধ্যমে বানানো। ফলে সামাজিক মাধ্যম হয়ে উঠছে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কেন্দ্রবিন্দু।

সম্প্রতি আলোচিত মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিকেও এমন প্রযুক্তি দিয়ে বিকৃত করা হয়েছে। এআইয়ের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখানো হয়েছে, তার কণ্ঠ নকল করে বানানো হয়েছে কথোপকথন। এমনকি তৈরি করা হয়েছে আসল ছবির মতো নকল দৃশ্য।

অনেকে ভাবেন, এসব ভিডিও কেউ বিশ্বাস করে না। কিন্তু মন্তব্যের ঘরে চোখ রাখলেই বোঝা যায়, মানুষ কত সহজেই প্রতারিত হচ্ছে। ভিডিওর শিরোনাম ও চমকপ্রদ উপস্থাপনায় অনেকে একে বাস্তব ঘটনা বলে ধরে নিচ্ছেন, যা মিথ্যা তথ্য সমাজে ছড়িয়ে দিচ্ছে ভাইরাসের মতো।

গণযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. আফতাব হোসেন জানান, “অপতথ্য সঠিক তথ্যের তুলনায় ছয় গুণ দ্রুত ছড়ায়।” পাশাপাশি তিনি এআই ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তার ভাষায়, “জাতীয় পরিচয়পত্রের মতো সংবেদনশীল তথ্য যদি প্রকাশ হয়ে যায়, তা আমাদের জন্য বড় বিপদের কারণ হতে পারে। আমাদের জানতে হবে, আমরা কতটুকু তথ্য এআইকে দেব, কতটুকু নয়। এআইয়ের নৈতিক নীতি কী, তার কাজের পদ্ধতি কী—এগুলো জানলে অনেক বিভ্রান্তি দূর করা সম্ভব।”

এদিকে, দেশের কয়েকটি রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, “নির্বাচনে এআইয়ের অপব্যবহার আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

অপরাধ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এআইয়ের অপ্রয়োজনে ও অবাধ ব্যবহারে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে দেখা দিতে পারে মারাত্মক সমস্যা। বিশেষ করে, নির্বাচনকেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী।

অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, “এ ধরনের পরিস্থিতিতে সুবিধাবাদী গোষ্ঠী নানা প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষের চিন্তা ও বিশ্বাসে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করে। তাদের উদ্দেশ্য সফল করতে তারা পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত প্রযুক্তিগত উপায়ে এসব গোষ্ঠীকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্ত স্থাপন করা।”

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাজান জোহা মনে করেন, এআই ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে এখনই নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, “আপনি যে তথ্য শেয়ার করছেন, তা ভবিষ্যতে কী কাজে লাগানো হবে—সেটির কোনো নিয়ন্ত্রণ আমাদের দেশে নেই। এমনকি আমাদের সিদ্ধান্তেও তারা প্রভাব ফেলতে পারে, সেটা ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা আইনে এআই নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। এ নিয়ে এখনই কাজ করা দরকার।”

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার এই সময়ে এআইকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তবে এর অপব্যবহার রোধে প্রয়োজন যথাযথ গবেষণা ও নিয়ন্ত্রিত প্রয়োগ। এখনই সময়, পদক্ষেপ নেওয়ার।

  • এআই ভুয়া নিউজ
  • জেনারেটিভ এআই
  • ভুয়া তথ্য
  • error: Content is protected !!