ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি আরও জোরদার করেছে তার প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে গত এক বছরে এক লাখের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
স্থানীয় সময় সোমবার (১২ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেওয়ার পর থেকেই অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু হয়। এসব অভিযানের ফলে বিপুলসংখ্যক ভিসা বাতিলের ঘটনা ঘটেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে একটি রেকর্ড হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহু অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকের কাছেই বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও তাদের আটক ও বহিষ্কার করা হয়েছে। শুধু ভিসা বাতিলই নয়, নতুন ভিসা ইস্যুর ক্ষেত্রেও কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে মার্কিন সরকার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, বাতিল হওয়া ভিসাগুলোর মধ্যে প্রায় ৮ হাজার ছিল শিক্ষার্থী ভিসা। এছাড়া অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরে আসা ব্যক্তিদের প্রায় ২ হাজার ৫০০টি বিশেষ শ্রেণির ভিসাও বাতিল করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরাধে জড়িতদের দেশ থেকে অপসারণের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-মুখপাত্র টমি পিগোট বলেন, ভিসা বাতিলের পেছনে চারটি কারণ সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে। এগুলো হলো—ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, সহিংস অপরাধে জড়িত থাকা এবং চুরির মতো অপরাধ। তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ভিসা বাতিলের হার বেড়েছে প্রায় ১৫০ শতাংশ।
