দিনের বেলায় কতক্ষণ ঘুমানো সবচেয়ে উপকারী? 

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: ২০২৬-০৬-২৮
ছবি : সংগৃহীত

ব্যস্ত কর্মজীবনে দুপুরের দিকে অল্প সময়ের জন্য ঘুমিয়ে নেওয়া বা ‘পাওয়ার ন্যাপ’ অনেকেরই দৈনন্দিন অভ্যাস। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক সময় ধরে নেওয়া এই ছোট্ট ঘুম শুধু ক্লান্তি দূরই করে না, বরং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ানো এবং বয়সজনিত ক্ষয় ধীর করতেও সহায়ক হতে পারে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দিনের বেলায় প্রায় ১০ মিনিটের একটি ন্যাপ সতর্কতা, মনোযোগ এবং কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে কার্যকর। এছাড়া ১০ থেকে ৩০ মিনিটের ঘুম শরীর ও মনকে দ্রুত সতেজ করে এবং ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে। ২০২১ সালের একটি মেটা-অ্যানালাইসিসেও উল্লেখ করা হয়েছে, স্বল্প সময়ের ন্যাপ উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতা উন্নত করতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

কেন বেশি সময় ঘুমানো ঠিক নয়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের বেলা অতিরিক্ত সময় ঘুমালে উপকারের পরিবর্তে ক্ষতির সম্ভাবনাই বেশি থাকে। ৩০ মিনিটের বেশি ঘুমালে শরীর গভীর ঘুমের স্তরে প্রবেশ করতে পারে। ফলে ঘুম ভাঙার পর মাথা ভার লাগা, ঝিমুনি বা অস্বস্তি অনুভূত হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে ‘স্লিপ ইনারশিয়া’ বলা হয়।

এছাড়া বিশেষজ্ঞ ড. ইশান ঝু মনে করেন, দিনের দীর্ঘ ঘুম রাতের স্বাভাবিক ঘুমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তার ভাষায়, এটি অনেকটা রাতের খাবারের আগে অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ার মতো, যা মূল খাবারের ক্ষুধা কমিয়ে দেয়। তাই তিনি দিনের বেলার ন্যাপ ৪০ মিনিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

অতিরিক্ত ন্যাপের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি

গবেষণায় দেখা গেছে, দিনের বেলা এক ঘণ্টার বেশি সময় ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘ সময়ের পরিবর্তে স্বল্প সময়ের ন্যাপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

মস্তিষ্কের সুস্থতায় ন্যাপের ভূমিকা

৩৫ হাজারের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত অল্প সময়ের জন্য দিনের বেলা ঘুমান, তাদের মস্তিষ্কের আয়তন তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। গবেষকদের ধারণা, নিয়মিত পাওয়ার ন্যাপ নেওয়া ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের জৈবিক বয়স অন্যদের তুলনায় প্রায় ২.৬ থেকে ৬.৫ বছর কম হতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক সংকোচনের গতি কমাতেও এটি সহায়ক হতে পারে।

কার্যকর ন্যাপের জন্য কিছু পরামর্শ

  • দিনের বেলা ঘুমানোর আগে অবশ্যই অ্যালার্ম সেট করুন, যাতে নির্ধারিত সময়ের বেশি ঘুম না হয়।
  • রাতে ঘুমের সমস্যা থাকলে দিনের দীর্ঘ ন্যাপ এড়িয়ে চলুন।
  • ক্লান্ত লাগলেও যদি রাতে ঘুমের ব্যাঘাতের আশঙ্কা থাকে, তাহলে ঘুমানোর বদলে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি বা হালকা ব্যায়াম করতে পারেন।
  • অনেক সময় অবসাদ, মানসিক চাপ বা পুষ্টির ঘাটতির কারণেও ক্লান্তি আসে। এমন ক্ষেত্রে শুধু ঘুম নয়, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও সুষম খাদ্যাভ্যাসেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের বেলায় ১০ থেকে ৩০ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত ন্যাপই শরীর ও মস্তিষ্কের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী। তবে দীর্ঘ সময় ঘুমানোর অভ্যাস এড়িয়ে চলাই সুস্থ থাকার জন্য ভালো।

error: Content is protected !!